রাউজানে ইউপি নির্বাচনের দিকে কৌশলে এগুচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

    0
    9

    রাউজানটাইমস ২৪ ডেস্ক :-

    UP_sd_671836876আগামী মার্চ মাসের আগে পরে ইউপি নির্বাচন হতে পারে এমন সম্ভাবনার মাঝে রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। অনেকেই দলিয় প্রতীকে নির্বাচন করার সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রার্থী নির্বাচনে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

    উল্লেখ্য যে, রাউজানে ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বর্তমানে ১৩জন চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ ঘরনার লোক। শুধুমাত্র রাউজান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফায়জুল ইসলাম চৌধুরী টিপু গতবার বিএনপি’র সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও তিনি গত পাঁচ বছরে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কর্মকাণ্ডে ছিলেন না। এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, সমাগত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশি তিন থেকে চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যানের বিপরীতে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে আছে। এই অবস্থার মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পূনঃনির্বাচনী যুদ্ধে নেমে স্বপদে বহাল থাকা নিয়ে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে সদ্য সমাপ্ত রাউজান পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন দানের যে নাটকিয়তা এলাকার মানুষ দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। কোনো পক্ষের বিরাগভাজন হতে পারেন এমন আচরণ বা নেতৃত্বের প্রতি যোগাযোগে সতর্কতার সাথে করা হচ্ছে।

    জানা যায়, রাউজানের আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর। বর্তমান চেয়ারম্যানরা প্রায় সকলেই তার অনুসারী বলে পরিচিত। তবে কয়েকটি ইউনিয়নের কিছু কিছু নেতাকর্মী বর্তমান চেয়ারম্যাদের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান নিয়ে পরিবর্তন চাচ্ছে। এরকম কিছু ইউনিয়নে নতুন প্রার্থীর প্রতি দলীয় নীতি নির্ধারকগণের আগ্রহ রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলা ইউনিয়ন সমূহে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে যত রকম কলাকৌশল করা যায় সবরকম কলাকৌশলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় আছেন। এরকম উৎসাহী অনেকেই সংবাদকর্মীদের ফোন করে বর্তমান চেয়ারম্যানদের সাথে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিচ্ছেন। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা শান্তিপদ বৈদ্য বলেছেন তিনি এবার তার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এই ভাবে নিজেরা প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাগোয়ান ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মোজাফ্‌ফর হোসেন, হলদিয়ার মাহবুল আলম, কদলপুর ইউনিয়নের তসলিম উদ্দিন চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

    জানা যায়, দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের। তাদের নির্বাচিত প্রার্থীর তালিকা থেকে যাছাই বাছাই করে কেন্দ্র দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দেবেন।

    আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে এখন কোনঠাসা অবস্থায় আছেন দলের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান ও ইউনিযন পর্যায়ে থাকা তার অনুসারিরা। বর্তমানে দলের কান্ডারীর ভূমিকায় আছেন উপজেলা সভাপতি সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী। অবশ্য সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত বিজয়ী মেয়র দেবাশীষ পালিতের পক্ষে কাজ করেছেন মুসলিম উদ্দিন খান। দেবাশীষের বিজয়ের সাথে তিনি ও তার সমর্থকরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। সূত্র মতে মেয়র দেবাশীষের বিজয়ে মুসলিম খানের অনুসারিরা এখন ইউপি নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে এলাকার ভিতরে বাইরের প্রভাবশালী নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

    মাঠ পর্যায়ে খবর নিয়ে জানা যায় রাউজানে এবার চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম প্রকাশ পাচ্ছে তাদের মধ্যে আছেনহলদিয়া ইউনিয়নেবর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এর সাথে সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন, মাহবুল আলম, এস এম বাবর,জিয়াউল হক সুমন বিএনপি’ আহসানুল হক চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন।

    ডাবুয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, মোহাম্মদ আলমগীর। চিকদাইর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী দিদারুল আলম, ব্যবসায়ী মোজাফ্‌ফর হোসেন তালুকদার, প্রিয়োতোষ চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন। গহিরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আবসার বাঁশি, ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন তালুকদার, নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী, ইফতেহার হোসেন, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ।

    নোয়াজিশপুর ইউনিয়নবর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার্দ্দী সিকদার,জাহেদুল আলম বিপুল,আজাদ হোসেন বক্তেয়ার,মোহাম্মদ ইসলাম, বিএনপি’র কামাল উদ্দিন।

    বিনাজুরী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সুকুমার বড়ুয়া, সংঘপ্রিয় বড়ুয়া,রবিন্দ্রলাল চৌধুরী, আবু সৈয়দ আলমগীর, মির্জা মোহাম্মদ আলমগীর। রাউজান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী, বিএম জসিম উদ্দিন হিরু,সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, হাসান মোহাম্মদ জসিম, নাসির উদ্দিন, শফিউল আলম চৌধুরী, সৈয়দ হোসেন কোম্পানী। কদলপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাহেদ উদ্দিন চৌধুরী লিংকন, প্রবাসী তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল হক চৌধুরী লাভলু, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফারুক, শফিউল আলম চৌধুরী টিপু। পূর্বগুজরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিনের সাথে চন্দন দে, মোহাম্মদ জমির উদ্দিন, নুরুল ইসলাম বাবুল, মাওলানা শফিউল আলম, মোহাম্মদ হোসেন। পশ্চিম গুজরা বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিনের সাথে লায়ন আবদুস ছালাম, অধ্যাপক নুরুল হক, মোহাম্মদ আলী আজগর, আবদুর রাজ্জাক। বাগোয়ান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ভূপেশ বড়ুয়ার সাথে সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাফ্‌ফর হোসেন, মোশারফ হোসেন ছোটন, কাজী আবুল বশর, আরিফুল আলম, ইলিয়াছ চৌধুরী বাচ্চু। নোয়াপাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম, কমাণ্ডার মোহাম্মদ শফি, জাফর আহমদ, শান্তিপদ বৈদ্য, জানে আলম। উরকিরচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার চৌধুরী, দুলাল বড়ুয়া, এইচ এম সৈয়দ নুর, মহিউদ্দিন ইমন, আনোয়ারুল আজম। পাহাড়তলী ঃ বর্তমান চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, আহমদ বশর, কামাল উদ্দিন, কামাল সাত্তার চৌধুরী, প্রদীপ চৌধুরী।

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here