‘এক মাসের মধ্যে রাউজান হবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা’ মেয়রের ইন্টারভিউ

    0
    1

    রাউজানটাইমস ২৪ ডেস্ক :-

    Meyor_ctg_917937542এক মাসের মধ্যেই রাউজানকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র দেবাশীষ পালিত।
    তিনি বলেছেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আমরা অনেক আগেই অর্জন করেছি।  আমাদের পরে প্রতিষ্ঠা হয়ে অনেক পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে।  অথচ আমরা এখনও দ্বিতীয় শ্রেণীতে থেকে গেছি।  গত এক যুগে যারা পৌরসভার নেতৃত্বে ছিলেন তাদের অদক্ষতা এবং অযোগ্যতার কারণে রাউজান পৌরবাসী এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ’ ‘আমার প্রথম কাজ হচ্ছে রাউজান পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা।  আমি মন্ত্রণালয়ে যাবো।  প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।  এক মাস, সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে আমি রাউজানকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা করবো। ’ বলেন দেবাশীষ।  বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বাংলানিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন রাউজানের তরুণ মেয়র দেবাশীষ পালিত।  ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত দেবাশীষ ২৭ জানুয়ারি দায়িত্বভার নেন।  দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলানিউজের মুখোমুখি হয়েছেন দেবাশীষ পালিত।  পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে দেবাশীষ পালিত ভোট পান ২৮ হাজার ১৬২।  প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পান ২ হাজার ১২০।
    ভোটের এ বিশাল ব্যবধানের বিষয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী আগেরবার মেয়র ছিলেন।  তার অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং কাপুরুষতার কারণে জনগণ তাকে প্রত্যাখান করেছে।  এছাড়া বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতিও রাউজানবাসী প্রত্যাখান করেছে। ’ ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় পৌরসভা হিসেবে রাউজান পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।  ১৯৯৯ সালে প্রথম পৌরসভা নির্বাচনে দেবাশীষ পালিত মেয়র (চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হন।  ২০০৪ সালে তার মেয়াদ শেষ হয়।

    এক যুগ পর আবারও পৌর ভবনে ফেরার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুবই বিশৃঙ্খল অবস্থা।  পৌর ভবন বেহাল, চারদিকে ময়লা-আবর্জনা, আসবাবপত্র পর্যন্ত বেহাল।  কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা নেই।  অফিসের সিস্টেম বলতে যেটা আমরা বুঝি সেটা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

    ‘দায়িত্ব নিয়েই আমি শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজে হাত দিয়েছি।  পৌর ভবনের আশপাশ ঘুরে দেখেছি অপরিচ্ছন্ন, ময়লা-আবর্জনায় ভরা।  আমি প্রকৌশলীকে ডেকে বলেছি ত্বরিৎ গতিতে যেন ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা হয়।  পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না, এটা আমি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বলে দিয়েছি। ’ বলেন দেবাশীষ।

    তিনি বলেন, শুরুতে রাউজান পৌরসভা সি-গ্রেডের ছিল।  প্রায় ২০ বছরেও এটা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হলনা, এটা দু:খজনক।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ব্যাপারে যথেষ্ঠ আন্তরিক।  আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে রাউজানের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবো।

    উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে দেবাশীষ বলেন, পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে।  এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে।  এরপর তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    আশির দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন রাউজানের গহিরার সন্তান দেবাশীষ পালিত।  ১৯৮৭ সালে তিনি রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন।  ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  এরপর ১৯৯৯ সালে রাউজান পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।

    ২০০২ সালে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে দেবাশীষ পালিত বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন।  তিন বছর আগে সর্বশেষ সম্মেলনে দেবাশীষ সাংগঠনিক সম্পাদক হন।

    সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে দেবাশীষ পালিত সাতবার কারাবরণ করেছেন।  ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি প্রথম কারাগারে যান।  এরপর খালেদা জিয়ার পদত্যাগের দাবিতে অসহযোগ এবং পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েও তিনি কারাবরণ করেন।

    রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন দেবাশীষ পালিত।  শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।  প্রতি বছর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তার নেতৃত্ব দেন দেবাশীষ।

    এছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) দুই মেয়াদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেবাশীষ পালিত।

    সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান দেবাশীষ পালিত বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here