বন্দরনগরীতে প্রধানমন্ত্রী আসছেন আজ

    0
    5

    pm-hasina_5প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ চট্টগ্রাম আসছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই সাথে চট্টগ্রাম চেম্বারের একশ বছর পূর্তি উৎসবে যোগদান এবং দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও তিনি উদ্বোধন করবেন। দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে যাবেন।

    প্রধানমন্ত্রী আজ সকাল এগারটা নাগাদ হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবতরণ করবেন। ওখানে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন তিনি। বিকেল তিনটায় সেনানিবাস থেকে সড়ক পথে তিনি নগরীর অক্সিজেনকুয়াইশ সংযোগ সড়কে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ এবং কুয়াইশ রাস্তার মাথায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর দেশের সবচেয়ে বড় ম্যুরালটি উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখান থেকে সড়ক পথে এসে নগরীর কদমতলীতে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন। ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর দেওয়ানহাট হয়ে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যাবে। ওখানে চট্টগ্রাম চেম্বারের একশ’ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদান এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধন করবেন তিনি। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে যাবেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন এবং চট্টগ্রামে একই সাথে অনেকগুলো প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজ শুরু হওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন নগরবাসী। বলা হচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে চট্টগ্রামের জয়যাত্রা চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আজকের দিনটিকে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য উৎসবের দিন বলেও আখ্যায়িত করেছেন। একই সাথে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যক্রমকে একটি বিরল ঘটনা বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি। আজ যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে সেগুলোর মধ্যে নগরীর অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ পর্যন্ত অনন্যা আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে নির্মিত অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ নামকরণ করা হয়েছে নয়া রাস্তাটির। ৬০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটির শুরু এবং শেষ প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। কুয়াইশ প্রান্তে তিনদিকে মুখ করে বঙ্গবন্ধুর ৪০ ফুট উঁচু তিনটি ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। এটি দেশে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় ম্যুরাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেল তিনটায় অক্সিজেন থেকে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউর ওপর দিয়ে গাড়ি বহর নিয়ে কুয়াইশ এলাকায় যাবেন। ওখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধ এ্যাভিনিউ উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী এখান থেকে ফিরে এসে কদমতলী ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়।

    কুয়াইশে তিনি পতেঙ্গাফৌজদারহাট লিংক রোড এবং ফৌজদারহাটবায়েজিদ বাইপাস রোড নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

    ১৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। বিদ্যমান বেড়িবাঁধ থেকে ১০ ফুট উঁচু করে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটি শহর রক্ষা বাঁধ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। রাস্তাটি পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় শিল্পায়ন, আবাসন এবং পর্যটনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের কার্যক্রম পুরোপুরি গুছিয়ে আনা হয়েছে।

    চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবেশ পথ এবং শহরের বাইপাস রোড হিসেবে ফৌজদারহাটবায়েজিদ সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল বেশ আগে। দফায় দফায় প্রকল্পটি নানা জটিলতার কবলে পড়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ অবশেষে শুরু হচ্ছে। আজ উদ্বোধন করার পর চলতি বছরের মধ্যেই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি নির্মাণ করতে সিডিএ ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

    মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ জোরেশোরে চলছে। এই ফ্লাইওভারেরই অংশ হিসেবে লালখান বাজার থেকে ফ্লাইওভারটি পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

    সরকারি এসব প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার নির্মিত দেশের প্রথম ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারও উদ্বোধন করবেন। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগ্রাবাদের ৭৫ কাঠা জায়গার উপর নির্মিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার, কনফারেন্স সেন্টার, হেলথ ক্লাব, দেশীয় পণ্য প্রদর্শনীর জন্য প্রদর্শনী হল, সুইমিং পুল, ডব্লিউটিও এর অফিস, আইটি ও মিডিয়া সেন্টার, অফিস স্পেস, পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে থাকছে বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আরো অনেক কিছু। ছাদের উপরে থাকছে হেলিপ্যাড, টেনিস ক্লাব ও বিনোদনের সব ব্যবস্থা রয়েছে। ৫৩ হাজার ৯১৩ বর্গফুট জায়গা নিয়ে ২৪তলা বিল্ডিংএ আন্ডারগ্রাউন্ড রাখা হয়েছে ৪০০ গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা। কেবল চট্ট্‌গ্রামেরই নয়, দেশের সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমণ্ডলে চট্টগ্রামের ভাবমূর্তি অনেকদূর এগিয়ে নিতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here