নোয়াপাড়ায় প্রাইমারী স্কুলের মাটি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ !

    0
    31

    এস.এম. ই্উসুফ উদ্দিন : –Raozan potia para school pic

    রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গার মাটি কেটে দখলের পায়তারা ও সাইনবোর্ড খুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে খোঁদ ভুমি দাতার এক ওয়ারিশের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি।

    বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারী সরেজমিন ওই বিদ্যালয় পরির্দশন করে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী ওয়ালের পাশ ঘেঁেষ আব্দুল মালেক নামের পটিয়া পাড়ার এক ব্যবসায়ী নিজের জমি দাবী করে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারীর পাশ ঘেষে মাটি কেটে পুকুর তৈরী করার কাজ করছেন। এসময় কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক মেম্বার, প্রতিবেশি বৃদ্ধ শফিউল আলম, আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তারা অভিযোগ করে বলেন, পটিয়া পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ৩৪ শতক জমি দান করেছিলেন এলাকার শোকর আলী। পরবর্তিতে বিদ্যালয়ের নামে আরো ২ গন্ডা জমি দান করেন শোকর আলীর ছোট ভাই আব্দুল হাকিম। ওই জমির উপর স্থাপন করা এই জায়গার মালিক পটিয়া পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের সাইনবোর্ডটি নামিয়ে ফেলেছেন ভূমি দাতার নাতি পথেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক। কোন মিসাংসা ছাড়া তিনি স্কুলের নামে লাগানো সাইন বোর্ড খুলে ফেলে আইনের প্রতি অবমাননা করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। এছাড়াও তাদের দাবী স্কুলের জমি নিজে দখলের নেওয়ার পায়তারা করছেন আব্দুল মালেক। তারা আরো জানান, মালেক যে জায়গায় মাটি কাটছেন সেটি বিদ্যালয়ের নামে দান করেছেন আব্দুল হাকিম নামের এলাকার এক ব্যক্তি।

    এদিকে ভুমি দাতার ওয়ারিশ আব্দুল মালেক দখলকৃত জমির অংশ বিদ্যালয়ের নয় এবং তা নিজের পৈত্রিক জমি দাবী করে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পুরো জায়গাটি আমার দাতা শোকর আলীর দান করা। বিদ্যালয় কমিটি যে জায়গাটি আব্দুল হাকিম দান করেছেন বলে প্রচার করছে তা সঠিক নয়। আমার দাদা শোকর আলী ৩৪ শতক জায়গা স্কুলকে দান করেছিলেন। আর কেউ কোন পরিমাণ জমি দান করেন নি। আমি আমার নিজের পৈত্রিক জায়গার উপর কাজ করছি। বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত কাগজপত্রে যদি আমার দখলে থাকা কোন জায়গা স্কুল পেয়ে থাকেন তাহলে তা আমি বিদ্যালয়কে অবশ্যই ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবো।

    বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি এস.এম. শফি বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করতে মিথ্যাচার করছেন এলাকার আব্দুল মালেক। জায়টি উদ্ধার করতে আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা কারো ব্যক্তি মালিকাধিন জায়গা স্কুলের বলে দাবী করবো না। কাগজপত্রে যদি ওই জায়গা স্কুলের হয়ে থাকে তাহলে সেটি উদ্ধার করা হবে কেউ ওই জায়গা দখলে রাখতে পারবেনা।

    এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। এখন মাটি কাটা বন্ধ আছে। দখলকারীকে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যেন আর মাটি না কাটে। তাছাড়া এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম ও সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here