রাউজানে ১৪ ইউপি নির্বাচন বর্তমান চেয়ারম্যানদের ‘নৌকা’ প্রতীক ঠেকাতে মরিয়া সম্ভাব্যরা

    0
    19
    জাহেদুল আলম :-

    রাউজানের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিরই বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারি দল আওয়ামী লীগের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়নেই বর্তমান চেয়ারম্যানরা পুনরায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জোর লবিং শুরু করেছেন। তবে এবার দলের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে দলের এমন সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। দল থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্যে ইতিমধ্যে তারা উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জেলা, এমনকি শীর্ষ নেতার দরবারেও ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যানদের নৌকা প্রতীক পাওয়া ঠেকাতে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নিজ দলের-নেতাকর্মীদেও বড় একটি অংশ। অনেক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান যাতে নৌকা প্রতীক না পায়, সেজন্যে ঐক্যবদ্ধ ।

    jahed potoহয়েও নানাস্থানে লবিং শুরু করে দিয়েছে তারা। বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা প্রার্থী হিসেবে লবিং শুরু করলেও বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঠেকাতে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী প্রয়োজনে প্রার্থীতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে একজনকে প্রার্থী করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদিকে ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বর্ধিত সভা করে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এসব ঘোষিত প্রার্থীকে বৈধতা দিতে নারাজ দলের সম্ভাব্য অপর প্রার্থীরা। এনিয়ে দলের জেলা পর্যায়ে অনেকে অভিযোগ দিয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব ইউনিয়নে ঘরোয়া বর্ধিত সভা করে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব ইউনিয়ন হচ্ছে নোয়াপাড়া, কদলপুর, রাউজান, পশ্চিম গুজরা ও উরকিরচর। এরমধ্যে নোয়াপাড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ দিদারুল আলম, কদলপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাহেদ উদ্দিন চৌধুরী লিংকন, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দীন আরিফ, উরকিরচরে আবদুল জব্বার সোহেল ও রাউজান ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন হিরুকে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়। অপরাপর ইউনিয়নগুলোতেও বর্ধিত সভা করে দলের প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান চেয়ারম্যানরা দলের নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্যে ব্যাপক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ অনেক নেতাও কামনা করছেন এসব চেয়ারম্যানরা যাতে পুনরায় প্রার্থী হতে পারেন। সেক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্ব দলের তৃণমূলের অনেক নেতা। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ১ নং হলদিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের বিপক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম, ডিউ গ্রুপের সেলিম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন চৌধুরী, এস এম বাবর ও জিয়াউল হক সুমন। তবে গোপন সূত্রের খবর এখানে বর্তমান চেয়াম্যানের বিপরীতে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজনকে প্রার্থী করার চেষ্টা করছেন। ২ নং ডাবুয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান চৌধুরী, কৃষক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর। এখানেও আলমগীর ও নজরুল ইসলাম সমঝোতা করে যেকোন একজনকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যানের বিপরীতে। ৩ নং চিকদাইর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক। এরমধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী দিদারুল আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রিয়তোষ চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের জসিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোবারক উল্লাহ ও সেলিম উদ্দিন। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঠেকাতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধ না হলেও স্ব স্ব স্থানে জোর লবিং চালাচ্ছেন। ৪ নং গহিরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আবছার বাঁশি, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. ইফতেখার উদ্দিন দিলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নাজিম উদ্দিন তালুকদার, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, ছাইদুল আলম মনছুর। এখানেও বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঠেকাতে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ৬ নং বিনাজুরি ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন একাধিক। বর্তমান চেয়ারম্যান সুকুমার বড়–য়া, আওয়ামী লীগ নেতা রবীন্দ্র লাল চৌধুরী, সাধন মুহুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা মো. আলমগীর, মোহাম্মদ খালেদ ও কামরুল ইসলাম বাচ্চু। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঠেকাতে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী একে অপরকে ছাড় দিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ৭ নং রাউজান ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী সৈয়দ হোসেন কোম্পানি, সাবেক চেয়ারম্যান শাহা আলম চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুল আমিন, সাবেক ছাত্রনেতা দিদারুল আলম, যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দিন, সারজু মো. নাছের, শওকত হোসেন। ৮ নং কদলপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাহেদ উদ্দিন চৌধুরী লিংকন, সমাজসেবক তছলিম উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল হক চৌধুরী লাভলু, ছাত্রনেতা সাইফুল্লাহ আনছারী। এখানে ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাহিদ উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তছলিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন ‘আমি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। বর্ধিত সভার কথা আমি জানিনা। ৯ নং ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দোস্ত মোহাম্মদ খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুন নবী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিপরীতে নৌকা প্রতীক পেতে জোর লবিং করছেন প্রদীপ চৌধুরী। ১০ নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দে, সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন, মাহামুদ হোসেন। এখানে বর্ধিত সভা না হলেও বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঠেকাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চন্দন দে ইতিমধ্যে ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সমর্থন আদায় করেছেন বলে জানা গেছে। ১১ নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে একমাত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দীন আরিফ। এখানে ইতিমধ্যে বর্ধিত সভায় বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ নং উরকিরচর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার চৌধুরী, দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল, উরকিরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন ইমন । ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আবদুল জব্বার সোহেলকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার চৌধুরী বলেন ‘আমাকে অবগত করা ছাড়াই তারা বর্ধিত সভা করেছে। এটি আমি মানিনা।’ ১৩ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ দিদারুল আলম, সাবেক চেয়াম্যান মনিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা শান্তিপদ বৈদ্য, বাবুল মিয়া মেম্বার, আবুল বশর বাবুল, জাহাঙ্গীর আলম সিকদার। ইতিমধ্যে এই ইউনিয়নে বর্ধিত সভায় বর্তমান চেয়ারম্যানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারেই বিরোধীতায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী শান্তিপদ বৈদ্য। তিনি বলেন যেটি করা হয়েছে সেটি গোপনে করা হয়েছে। তাই ওই বর্ধিত সভার কোন গুরুত্ব নেই।’ ১৪ নং বাগোয়ান ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভূপেশ বড়–য়া, যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন ছোটন, সাবেক ছাত্রনেতা এস এম শফি। ১৫ নং নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরোয়ার্র্র্দী সিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী ও বিপুল সিকদার।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here