চুয়েটের ৩য় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি এড.আবদুল হামিদ- জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে

    0
    8

    জাহেদুল আলম/ এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন, রাউজানটাইমস :-Raozan Cuet

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়। বন্ধ হয় মানুষের বাক, মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত।’ গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েট’এ তৃতীয় সমাবর্তন উপলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী ২০৫০ বা ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা অবস্থান কোন স্তরে পৌঁছাবে তা বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেও যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নিজেদের জ্ঞান ও দতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।
    রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা করেছেন। এ রূপকল্প বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
    গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে চুয়েট চ্যান্সেলর আবদুল হামিদ বলেন, সেবা, সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম দিয়ে এ সনদের মান সমুজ্জ্বল রাখতে হবে। তোমাদের এ অর্জনে দেশের মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। নিজেদের মেধা, মনন ও কর্মের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে হবে। কর্মেেত্র পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাক না কেন, মাতৃভূমি এবং দেশের জনগণের কথা কখনো ভুলবে না।
    ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবধান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে ল জনতার সামনে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন। আর বাঙালি মুক্তির সনদ হচ্ছে ৬-দফা। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উৎরায় এর মধ্যে দিয়ে জাতির পিতা ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। চট্টগ্রামের সন্তান এম এ হান্নান ঐদিন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ ঘটনা চিরদিন স্বর্ণারে লিপিবদ্ধ থাকবে।
    সমাবর্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, শিােেত্র প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে শিার উচ্চমান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও পিছিয়ে রয়েছি। শিার যথোপযুক্ত উন্নয়নের জন্য গবেষকদের মানোন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে।
    স্বাগত বক্তব্যে চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চুয়েটে ১৫টি বিভাগ এবং ২টি ইন্সটিটিউট থেকে øাতক, øাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। সেশনজটমুক্ত, অস্থিরতামুক্ত একটি সুন্দর সুখী পরিবার হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে।
    এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন,ডঃজামিল রেজা চৌধূরী, চুয়েট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম,। সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল প্রমূখ।
    সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৬০৩ জন শিার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ¯œাতকে ১ হাজার ৫৬৪ জন, মাস্টার্সে ৩২ জন, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ৪ জন এবং পিএইচডি ০৩ জন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য উক্ত সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চারজনকে গোল্ড মেডেল প্রধান করা হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here