‘নীতির জন্যে জীবন ত্যাগ করতে পারি’ : ড. আলমগীর মোহাম্মদ

    0
    2

    index_SM_222454120যে নীতি বিশ্বাস করেন তার জন্যে জীবন ত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস, ইতিহাসবিদ ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। বুধবার নগরীর ডিসি হিলে স্বাধীনতার বইমেলার দ্বিতীয় দিন চট্টগ্রাম একাডেমি পুরস্কার গ্রহণের পর এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, লোকসাহিত্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

    শাসুজ্জামান খান জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের বিজ্ঞপরামর্শের কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামের মতো এত বেশি পণ্ডিত, মনীষী, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ দেশে আর নেই। বিজ্ঞানচর্চায়, ইতিহাস রচনায় যে সব পণ্ডিত ও বিদগ্ধজন আছেন তাদের মধ্যে ড. সিরাজুদ্দীন একজন। তিনি অনেক বড় মাপের মেধাবী ইতিহাসবিদ। তিনি আমাদের মেনটর। এখানকার অনেক মনীষী মেধায়, বীরত্বে সম্মানিত হয়েছেন কিন্তু ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন তেমন কোনো সম্মান পাননি। এখন সময় এসেছে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার।

    অর্থনীতিবিদ-প্রাবন্ধিক ড. মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ইতিহাসবিদ ড. শামসুল হোসাইন, কথাসাহিত্যিক ড. হরিশংকর জলদাস ও শিক্ষাবিদ আসমা সিরাজুদ্দীন।

    শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩৪৫ চেয়ারম্যান খালেদা এ আউয়াল।জীবনী পড়েন একাডেমির পরিচালক অজিত কুমার আইচ।

    ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন চট্টগ্রাম একাডেমিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সম্মাননা নিতে আমি বিব্রতবোধ করছি।এসবের যোগ্য আমি নই। আমি সৎ জীবন যাপন করতে চেয়েছি। নীতিতে অটল থাকতে চাই। নীরবে নিভৃতে লেখাপড়া করাই আমার সাধনা। এখন স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর কাজ করছি। আশা করি এ বছর কাজটি শেষ হবে। এর পরে সাতকানিয়া থানার কাঞ্চনা থেকে শুরু করে জীবনের সাথে জড়িয়ে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।

    শামসুজ্জামান খান মধ্যযুগের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, এনামুল হকের অবদান তুলে ধরে বলেন, বাংলা একাডেমি এ দুই মনীষীর নামে ভবন তৈরি করেছে। মনীষী ফনি বড়ুয়া, বিনয় বাঁশিসহ আরও অনেককে সম্মানিত করার চেষ্টা করছে এ প্রতিষ্ঠান। মূলত সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতি বেঁচে থাকে। তার সাথে শিক্ষা যোগ হলে তা পরিপূর্ণতা লাভ করে। এ শিক্ষার জন্য দরকার বই। মধ্যবিত্ত তথা নিুমধ্যবিত্ত ধীরে ধীরে শিক্ষিত হচ্ছে। তারা বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে বইমেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে বই পৌঁছে গেলে সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা দূর হবে এবং ধর্মীয় অন্ধকার থেকে দেশ ও জাতি আলোকিত, আধুনিক সমাজমনষ্ক জাতি গঠনে অনেকটাই সহজ হবে।

    ড. মইনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ ইতিহাস তুলে বলেন, উপাচার্য থাকাকালীন ড. সিরাজুদ্দীন জামাত-শিবির কর্তৃক ২৮ দিন বন্দী ছিলেন। কিন্তু তাদের কাছে কখনো মাথা নোয়াননি। বিপদের মধ্যেও সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার মতো সাহসী ও মেধাবী ইতিহাসবিদ এ মুহূর্তে বাংলাদেশে আর নেই। তিনি বাংলাদেশের নন সারাবিশ্বের খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ। তার স্ত্রীও একজন মনীষী। এখনও এ দুই মনীষী জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন। মনীষীদের শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জীবদ্দশায় দেওয়ার যে সংস্কৃতি চট্টগ্রাম একাডেমি চালু করেছে তাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    ড. শামসুল হোসাইন ড. সিরাজুদ্দীনের প্রথম প্রকাশনা জনসমক্ষে প্রদর্শিত করে বলেন, এ ধরনের প্রকাশনা বিদেশি প্রকাশনার সাথে তুল্য।

    তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় প্রথম গবেষণা পত্রিকা বের করার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ড. সিরাজুদ্দীন তার বইয়ে যে আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন সেই স্বপ্নপূরণ এখন হয়নি। চট্টগ্রামকে বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করা উচিত। কেননা এখানকার বন্দর প্রাচীন বন্দরগুলোর একটি। চট্টগ্রামের অনেক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করার জন্যে নেই পৃষ্ঠপোষকতা। এসব অবক্ষয় উত্তরণে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    ড. হরিশংকর জলদাস ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মানুষকে আরও বেশি সচকিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের পুরস্কার প্রাপ্তিতে আরও দায়িত্ব বেড়ে গেল। আমরা তার কাছ থেকে আরও আলো চাই।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমু।

    সন্ধ্যা সাতটায় কবি খুরশীদ আনোয়ারের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি কমলেশ দাশগুপ্ত, মৃণালিনী চক্রবর্তী, আখতারী ইসলামসহ অনেকে।একক আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মাশরুর হোসেন ও প্রাচুর্য। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও বৃন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গন। বিকেল পাঁচটায় শুরু হয় শিশুকিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বিকেল চারটায় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। সাড়ে পাঁচটায় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮০ বছর পূর্তি ও কবি-প্রাবন্ধিক আবুল মোমেনের বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্তিতে বিশেষ অধিবেশন। চট্টগ্রাম একাডেমির পরিচালক শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্তের সভাপতিত্বে এ পর্বে আলোচক থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক গোলাম মুস্তাফা, সাহিত্যিক ও কলামলেখক ফেরদৌস আরা আলীম, সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি কামরুল হাসান বাদল।সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় থাকবে দলীয় পরিবেশনা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here