গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন

    0
    19

    sharif-3-800x459গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নগরীর টাইগারপাস এখন দৃষ্টিনন্দন এলাকা। এর উপর দিয়ে ফ্লাইওভার গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর চোখে পড়বে না। তাই কোন কিছু করার আগে অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করা উচিত।

    তিনি বলেন, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর কিংবা কদমতলি ফ্লাইওভার কোনটাই ঠিক হয়নি। নতুন ফ্লাইওভারের অবস্থা কি হবে, তা ভবিষ্যতে দেখার বিষয়।
    গতকাল শনিবার নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ‘টেকসই জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অথিতির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া।
    আইইবি’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আইইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, বর্তমানে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারে দুই নম্বর গেইটে একদিকে নামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিন্তু উঠার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। জিইসির মোড়ে নামা কিংবা উঠার কোন ব্যবস্থায় রাখা হয়নি। এখন তা করতে হলে অনেক ভবন ভাঙতে হবে। তা কখনো সম্ভব নয়। পরিকল্পনা করার সময় এসব বিষয় চিন্তা করা উচিত ছিল। বহদ্দারহাট, কদমতলি ফ্লাইওভারে গাড়ি উঠেনা। সেখানে মানুষ সকালে ব্যায়াম করে। যা হবার হয়ে গেছে। ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
    গণপূর্ত মন্ত্রী আরো বলেন, চুয়েট কিংবা বুয়েটে টাকা দিলে নিজের মতো করে মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করার আগে আইইবি’র অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিলে পরিকল্পিত ও পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম শহর বিলবোর্ড মুক্ত হয়েছে। আশা করছি ফুটপাত হকারম্ক্তু হবে।
    সিটি মেয়রকে উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন, মেয়রের প্রতি অনুরোধ করবো, লাইসেন্সবিহীন রিকশা বন্ধ এবং নতুন করে রিকশার লাইসেন্স না দিলে যানজট অনেকটা কমবে। আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে ব্যাপারে সিডিএর কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংসদ ডা. আফসারুল আমিন, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী, স্থপতি সৈয়দা জেরিনা উদ্দিন (হোসেন), প্রকৌশলী আলি আশরাফ।
    স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো শহরে সাগর, নদী আর পাহাড় নেই। অপূর্ব এ শহরটি আমরা নিজেরাই শেষ করছি। চট্টগ্রাম শহরে স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গন্তব্যস্থলে যথাসময়ে পৌঁছানোর সময় এখন আর নেই।
    সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নগরীতে যানজটের আরো অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে সব অভিযোগ ফ্লাইওভার নিয়ে। অথচ ফুটপাত দখলসহ আরো অনেক বিয়ষ রয়েছে যা নিয়ে কোন আলোচনাই করা হয়নি।
    প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, নগরীর বাকলিয়ার চেয়ে রাউজান কিংবা ফটিকছড়ির অবস্থা অনেক ভালো। বাকলিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা খুবই জরুরি। শুধুমাত্র অব্যস্থাপনার কারণের নগরীর কর্ণফুলী সেতু সংলগ্ন বশরুজ্জামান চত্বরে যানজট লেগে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পর্যাপ্ত সড়ক থাকা সত্ত্বেও একই স্থানে টেম্পো, বাসস্টেশন এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার ফুটপাত না থাকায় সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে সেখানে যানজট হবার কোনো কারণ নেই।
    স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ফ্লাইওভারের সাথে সিডিএর পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা নেই। সিডিএ বলছে, চট্টগ্রাম সিঙ্গাপুর-মালেশিয়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর সম্পৃক্ততা ছাড়া কোন পরিকল্পনা করা হলে তা সফল হয় না। কোন কিছু না জেনেই নগরীর বুক চিরে একের পর এক ফ্লাইওভার তৈরি করা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থেকে আমরা বের হতে পারছি না। সিডিএতে প্রকৌশলীদের কোন টিম নেই।
    মূল প্রবন্ধে প্রকৌশলী সুভাষ বড়–য়া বলেন, চট্টগ্রাম নগরে বর্তমানে যে পরিমাণ মিক্সড (যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক) যানবাহন চলছে তাতে নগরে আদৌ কোন যানজট হবার কথা নয়। যানজট নিরসনের নামে উড়াল সেতু নির্মাণেরও আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। কারণ চট্টগ্রাম নগরে যে সড়ক নেটওয়ার্ক আছে এবং মূল সড়কের যে প্রশস্ততা আছে তার পরিবহন ধারন ক্ষমতা অনেক বেশী। অথচ আমরা নগরবাসী প্রতিদিন তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত। এছাড়াও নগরীতে যানজটের মূল কারণ হচ্ছে, একই সড়কে রিকশা ও যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। কোন ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। কোন যানবাহন ব্যবস্থাপনা নেই। পরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। সড়কের শতভাগ ব্যবহার, যথার্থ ফুটপাত, ট্রাফিক সিগন্যাল ও পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। এ কাজগুলো করতে শত হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলেই এসব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
    সুভাষ বড়–য়া বলেন, যানজট নিরসনে সরলীকরণ করে অপরিহার্য বিষয়গুলো বাদ দিয়ে নির্মাণ করছি অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল ফ্লাইওভার। বিশ্বের কোথাও আলোচ্য বিয়ষগুলো নিশ্চিত না করে নগরের ভিতরে কোন নতুন সড়ক, উড়াল সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে করে না। কারণ এগুলোই যানজট নিরসনের মৌলিক পদক্ষেপ। সুতরাং আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা কি সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবো, না অপ্রয়োজনীয় উড়াল সেতু করবো।
    এ মুহূর্তে আমাদের যা করতে হবে তা হলো- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন চাহিদা ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা ও বর্তমান সড়কের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাছাড়া বাসের জন্য আলাদা লেন, বাস সংখ্যা বাড়ানো এবং সার্ভিস উন্নত করা, রিক্শার জন্য আলাদা লেন, যথাযথ ফুটপাত তৈরি, জাংশন ডিজাইন সংস্কার, বাসের জন্য অগ্রাধিকার ট্রাফিক সিগন্যাল প্রতিষ্ঠা, নিয়ম-শৃংখলা মেনে চলার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা, সুবিধামতো বিভিন্ন জায়গায় বাস ডিপো করা বা নগরের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল করা এবং সুবিধামতো জায়গায় ট্রাক টার্মিনাল করা।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, বদিউল আলম, সিডিএ বোর্ড সদস্য ইউনুস গণি চৌধুরী প্রমুখ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here