কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাতের ফযিলত

    0
    34

    আলহাজ মাওলানা মুফতি জিল্লুর রহমান হাবিবী :- (লেখক রাউজানের প্রিয়কাগজ)
    সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া সেই মহান স্বত্ত্বা পরওয়ার দেগারে আলম রাব্বুল ইজ্জতের আলী শান দরবারে যিনি তাঁর প্রিয় হাবিরের উম্মত বানিয়ে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সাথে সাথে তিনি অত্যন্ত দয়া পরবশ হয়ে আমাদের মত গুনাহগারদের গুনাহ মাফের জন্য নির্দিষ্ট কতেক বরকতময় রজনী দান করে ধন্য করেছেন। যেমন লাইলাতুল বরাত, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর রাত ইত্যাদি। আর অসংখ্য দরুদ ও সালামের সওগতি প্রেরণ করছি রাহমাতুল্লিল আলমীন, শফিউল মুযনেবিন, উম্মতের কাণ্ডারী নবী মোহাম্মদ মুস্তফা (সা.) এর নুরানী কদম মুবারকে যাঁর একমাত্র উছিলায় এসব বরকত মণ্ডিত রাতসমূহ আমরা পেয়েছি। পবিত্র শবে বরাত সেই সব পূর্ণময় রজনীর অন্যতম। এই সম্মানিত রাতের ফযিলত ও তাৎপর্য মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও রাসূলে পাক (সা.) এর হাদীসে অসংখ্য স্থানে বিধৃত হয়েছে। নিন্মে এই প্রসঙ্গে সংপ্তি আলোচনার প্রয়াস পাচ্ছি :
    আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন কালামে মজিদে এরশাদ করেন, অর্থ : ‘হা-মীম। শপথ! ওই সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চ আমি সেটাকে বরকতময় রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয় আমি সকর্তকারী, তাতে বণ্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ কাজ।’  (সূরা দুখান, ২৬ পাড়া)। হযরত ইকরামা (রা.) এবং একদল গবেষক সাহাবায়ে কেরামের মতে আল কোরআন বর্ণিত ‘লাইলাতুল মুবারক’ দ্বারা শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে। এই বরকতময় রজনীতে পবিত্র কোরানুল করিম লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ন হয়। তাফসীরে কবির, তাফসীরে কাশ্শাফ, তাফসীরে সিরাজুল মুনির, তাফসীরে জুমাল, তাফসীরে সাবী, তাফসীরে আবুল মাসউদ, তাফসীরে রুহুল বয়ানসহ প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে জালালাঈন শরীফেও নিন্মরুপ উদ্ধৃত রয়েছে। (ওহে শবে বরাত) কুরআন মজীদ সপ্ত আসমান থেকে প্রথম আসমানে অবর্তীর্ণ হয়। তাফসীরে জুমালে নিন্মরূপ বর্ণিত হয়েছে। ‘কোনআন পূর্নাঙ্গ রূপে সেই রাত্রিতে লাউহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। শবে বরাতের নাম সমূহ : পবিত্র শবে বরাতের চারটি নাম রয়েছে : ১। লাইলাতুল মুবারকা তথা বরকতময় রজনী। ২। লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ মুক্তির রাত। ৩। লাইলাতুল রহমত তথা রহমতের রজনী ও ৪। লাইলাতুস সক তথা পুরস্কারের সনদ প্রাপ্তির রাত। ( তাফসীরে জুমাল, সাবী) শবে বরাত মুক্তির রাত : নবী করিম (সা.)এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা শবে বরাতের রাত্রিতে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন এবং বনী কাল্ব গোত্রের বকরীর লোমের চেয়েও অধিক সংখ্যক আমার উম্মতের গুনাহ মার্জনা করে মুক্তি দান করেন। (তিরমিযী ও ইবনে মাযাহ শরীফ)
    শবে বরাত ভাগ্য বণ্টনের রাত : ইমাম বায়হাকী (রা.) দাওয়াতে কবীরে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি এরশাদ করেন, ‘এই রাত্রিতে পূর্ণ বৎসর জন্মগ্রহন কারীদের এবং পূর্ণ বৎসর মৃত্যুবরণকারী আদম সন্তানদের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়। তাদের রিজিক অবতরণ করা হয়।’ ইমাম মহিউস সুন্নাহ বাগভী (রা.) বলেন, রাসূলে খোদা ইরশাদ করেন ‘শবে বরাতের বরকতময় রজনীতে গোটা বিশ্ববাসীর পূর্ণ এক বৎসরের লেনদেনের দপ্তর ফেরেশতাদেরকে সোপর্দ করা হয়। এমনকি মানবজাতির বিয়ে-শাদী, সন্তান-সন্ততীর জন্মগ্রহন, সন্তানের আগমনের খূশি উদযাপন, বসতবাড়ি ও গৃহ নির্মাণসহ সব কিছু তালিকাভূক্ত করা হয়।’ শবে বরাতে মার অযোগ্য যারা : রাসূলে আরাবী (সা.) ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সেই রাত্রিতে সকল মুসলমানদের মা করেন কিন্তু গণক, জাদুগর, মধ্যপায়ী, পিতা-মাতা অবাধ্যতাকারী ও ব্যাভিচারীরা ব্যতিত। (তাফসীরে কবীর, সাহাবী, কাশ্শাফ ইত্যাদি)
    অন্য হাদীসে রয়েছে সুদখোর। অহংকারের সাথে পায়ের গোড়ালির নিচে কাপড় পরিধানকারী, মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহকারী, অপর মুসলমানের হক আত্মসাৎকারী এইসব লোককে শবে বরাতে মা করা হবে না। শবে বরাতে খোদায়ী আহবান : হযরত আবু বক্কর  (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী ইরশাদ করেন, ‘যখন শবে বরাতের আগমন হবে বিনিদ্র রজনী যাপন কর দিনে রোজা আদায় কর। কেননা তা বরকতময় রজনী এই রাতে আল্লাহ তায়ালা আহবান করে বলেন, মা প্রার্থনাকারী কেউ আছ? আমি তাকে মা করব। কে আছ অসুস্থ থেকে আরোগ্য প্রার্থনাকারী? আমি সুস্থহা দান করব। কে আছ রিযিক প্রার্থনাকারী? আমি রিযিক দান করব। সে যেটা প্রার্থনা করবে আমি তাই দান করব। এভাবে ফজর উদীত হওয়া পর্যন্ত আহবান করতে থাকেন। ( তাফসীরে কাশ্শাফ, জুমাল, সাবী ইত্যাদি)
    শবে বরাতের সুন্নত আমল সমূহ : নিন্মে কয়েকটি আমল পেশ করা হলো ঃ ১। নফল ইবাদত তথা নফল নামাজ পড়া। ২। তাওবা ও ইস্তিগফার কামনা করা। ৩। কোরআন শরীফ তেলওয়াত করা। ৪। দরূদ শরীফ পাঠ করা। ৫। কবর জিয়ারত করা। ৬। জিতির-আজগার পাঠ করা ও ৭। শবে বরাতের পরের দিনসহ কমপে তিনটি রোজা রাখা ইত্যাদি। পরিশেষ রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে ফরিয়াদ জানাই তিনি যেন আমাদেরকে শবে বরাতের ফযীলত ও তাৎপর্য যথাযত অনুধাবনের মাধ্যমে আমল করে নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমিন। বেহুরমতে শফিয়ীল মুজনেবীন।10530951_1442808105997203_5388201587080628525_n

    লেখক: আরবী প্রভাষক,

    চরনদ্বীপ রজবীয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here