এসপি বাবুলের স্ত্রী মিতুর করুণ মৃত্যু ‘টক অব দ্যা উপজেলা’ ফেইসবুকে নিন্দার ঝড়

    0
    51
    জাহেদুল আলম :-
    পুলিশের জনপ্রিয় ও সুদক্ষ অফিসার বলে খ্যাতি পাওয়া এসপি বাবুল আক্তার কর্মজীবনের পাঁচবছর কাটিয়েছেন হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি হিসেবে। তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা ছিল হাটহাজারী, একসময়ের সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা। তিনি এই চার অঞ্চলে অসীম সাহসিকতায় খুন, অপহরন, ডাকাতি, ব্যাংক লুটের ঘটনা উদঘাটনসহ নানা অপরাধ দমনে ব্যাপক ভূমিকা রেখে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করেছিলেন। হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি হিসেবে কর্মরত অবস্থায় রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীর বড় সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, নানা ঘটনার রহস্য উদঘাটন তথা সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচনে বড় ভূমিকা রেখে এতদাঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন।capture_115387মূলত এই চার অঞ্চলে আইন শৃংখলার দৃশ্যেমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কারণেই পুলিশ বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম তথা সারাদেশে একজন আদর্শ, নীতিপরায়ন ও সাহসী পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। মাত্র দেড়-দুইবছর আগে হাটহাজারী সার্কেলের দায়িত্ব থেকে কক্্রবাজার জেলায় বদলীর পর তার বদলী ঠেকাতে হাটহাজারীবাসী আন্দোলনও করেছিলেন। রাউজানসহ চার উপজেলার সন্ত্রাসীদের মূর্তিমান আতংক আর আইনী সহায়তার অধিকারী সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠা এ বাবুল আক্তারের সাথে চার অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে ভালোবাসা আর চেনা-জানা গড়ে উঠেছিল। সেই অতি পরিচিত এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুর আকস্মিক করুণ মৃত্যুতে শোকাহত, ব্যতিত রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ির মানুষ। সন্তানের সামনে সন্ত্রাসীদের হাতে একজন নারীর নৃশংসভাবে খুন বিষয়টি কোনভাবেই যেন মেনে নিতে পারছেনা এখানকার মানুষ। রবিবার সকালে খবরটি গণমাধ্যম প্রকাশের পর থেকেই আপসোসের সুর শোনা গেছে এই চার অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে। গত সোমবার সকালে দৈনিক পূর্বকোণসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ খবরটি শিরোনাম আকারে সচিত্র সংবাদ পেয়ে মর্মাহত হন এসব এলাকার মানুষ। পথে-ঘাটে, হাট-বাজারে, অফিস পাড়ায় সারাদিন এ সংবাদটি সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে আসে। ‘টক অব দ্যা রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি’এ পরিণত হয় এ সংবাদ। অনেকের প্রশ্ন ছিল, এসপি বাবুল আক্তার সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছিলেন নানা সময়। কিন্তু তার দুই অবুঝ সন্তানের মা অবলা সে মিতুর কি দোষ ছিল?। এরআগে ওই ঘটনার পর থেকেই রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি উপজেলার ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ খুনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।Ctg-520160605103119

    নিহতের পরিবারের প্রতি নানা আবেগপ্রবণ ভাষা আর খুনীদের প্রতি ক্রোধ ঝেড়ে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করে ফেইসবুক ওয়ালে ‘কমেন্ট’ করে ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা। নিন্দার ঝড় বইয়ে যায় ফেইসবুকের প্রায় নানা স্তরজুড়ে। জানাজার সময় এবং লাশ দেখে বার বার বাবুল আক্তারের আহাজারীর ভিন্ন ভিন্ন ছবি ফেইসবুকে দেখে অনেকে মন্তব্য করেন ‘চোখের জল আর ধরে রাখতে পারলাম না।’ ফটিকছড়ির জাহাঙ্গীর উদ্দিন মোহাম্মদ নামের এক ফেইসবুক ফ্রেন্ড লিখেন ‘আমার প্রিয় একজন পুলিশ অফিসারকে এভাবে বাচ্ছাদের মত কাঁদতে দেখে এক নীরব কান্নায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে।’ রাউজানের তপন দে লিখেন ‘সত্যি আজ আমরা বড়ই লজ্জিত, এই চাটগাকে আপনার কর্ম 2-2-548x525দক্ষতাই শুধু দিয়ে গেলেন, আর এই চাটগাঁতে আপনার প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনীকে হারালেন, আমরা আপনার সহধর্মিনীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলাম, আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম কিছুই করতে পারলাম না আপনার জন্য, আপনি আমাদের ক্ষমা করুন।’ মুবিনুল হক চৌধুরী লিখেন ‘ মেনে নিতে পারছি না এই খুনটাকে, ওই বাচ্চাগুলোর কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে, কতই কষ্ট তাদের ভিতর কত জ্বালা। হে আল্লাহ খুনিদের তুমি কুত্তার মত মৃত্যু দাও যারা দুইটি অবুঝ শিশুর আদরের স্থান কেড়ে নিয়েছে।’
    একসময় বাবুল আক্তারের অধীনস্ত রাউজান থানার বর্তমান এসআই মনছুর বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়–য়াকে জি-ত্রিসহ, খলিল ডাকাত, সিরাজ ডাকাত, বাদশা ডাকাত, পারভেজ ডাকাত, কদলপুরে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার, বিভিন্ন সময় অস্ত্র গোলাবারুদসহ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেন। এছাড়া নোয়াপাড়া পথের হাটে ব্যাংক চুরি, বিভিন্ন খুন, অপহরন ও আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটন করে ব্যাপক খ্যাতি পান তিনি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here