চালের দামে অস্বস্তি, সবজিতে স্বস্তি

    0
    12

    রাউজানটাইমস ২৪ ডেস্ক :- এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ বেগুনসহ সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। রোজা শুরুর আগেরদিন এসব সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছিল। পাইকারি ও খুচরা বাজারে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর সবজির দামে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে চালের দাম বাড়তি রয়েছে। সব ধরনের চাল বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দেড়শ থেকে দুইশ টাকা বেড়েছে।

    ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ম্যাজিস্ট্রেট যেভাবে অভিযান চালাচ্ছেন, তাতে বেশি দাম বিক্রির সুযোগ নেই।’ এছাড়াও নগরীর বড় পাইকারি রিয়াজউদ্দিন বাজারেও কাঁচা মরিচ, বেগুনসহ সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
    প্রতি বছর রোজা শুরু হলে ইফতারি প্রধান অনুষঙ্গ কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা ও গাজরের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। রোজা শুরু আগের দিন পাইকারি ও খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দাম সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কিন্তু প্রথম রোজার দিন নগরীর বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার ও খুচরা বাজার কাজির দেউড়ি বাজার, ষোলশহর কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন কাঁচা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন। রিয়াজউদ্দিন । ৯ম পৃষ্ঠার ১ম ক.­

    বাজারের ২৫-৩০ টাকার কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বাজারভেদে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। পাইকারি বাজারের ২৫-৩০ টাকার বেগুনও ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় চার ব্যবসায়ী, আড়তদারকে জেলা-জরিমানা দেয় আদালত। এরপর থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম কমে আসে।
    জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, নগরীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং অভিযান চলছে। রমজান মাসজুড়ে এ অভিযান চলবে।
    গতকাল শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। রোজার প্রথমদিন বিক্রি হয়েছিল ৬০-৮০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা দরে। রোজার প্রথমদিন তাও বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা দরে। শসা বিক্রি হচ্ছে (ছোট আকার) ২৫-৩০ টাকায়। বড় আকারের ৩৫ টাকা দরে। অন্যান্য সবজির দামও কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা হারে কমেছে। বর্তমানে পটল বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, বরবটি ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচা পেপে ২৫ টাকা, কাকরল ৩৫ টাকা, বাংলা লাউ ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙে ৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা দরে।
    কাজির দেউরি কাঁচা বাজারের ক্রেতা আবদুল মান্নান বলেন, সারাবছর এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে স্বস্তি বজায় থাকবে। ক্রেতারা আর ঠকবেন না।
    এদিকে, সবজি ছাড়াও ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, রসুনের দামও কমেছে। রোজার আগে ছোলা, চিনির দাম চড়া ছিল। এক মাসের ব্যবধানে এ দুটি পণ্যের দাম ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। পাইকারি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর এসব পণ্যের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বাড়তি থাকায় স্থানীয় বাজারেও ছোলার দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
    খাতুনগঞ্জ পাইকারি ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চিনি ও ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা কমেছে। বর্তমানের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
    সকল প্রকার ডালের দাম এখনো উঠা-নামায় রয়েছে। রোজার আগে ছোলা, চিনির সাথে পাল্লার দিয়ে ডালের দামও কয়েক দফায় বেড়েছিল। পাইকারি বাজারে খেসারি ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭২ টাকায়। চনার ডাল ৯০ টাকা, মটর ডাল ৪৭ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৫-৭ টাকা বেড়েছে।
    পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮-১৯ টাকায়। রসুনের দাম দুইশ টাকা থেকে কমে ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    খাতুনগঞ্জ পাইকারি ব্যবসায়ী রাজীব মুহুরী বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। রসুনের দামও কমতি রয়েছে।
    কর্ণফুলী কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মো. এয়াকুব চৌধুরী বলেন, ডালের দাম বাড়তি থাকলেও ছোলা, চিনি, পেয়াজের দাম কমেছে। অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চালের দাম বেড়ে গেছে।
    বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে আতপ চাল বস্তাপ্রতি ১০৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ টাকা। আতপ (বেতি) চাল ১৩০০ টাকা থেকে বেড়েছে ১৪০০ টাকা। সিদ্ধি চাল ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা, জিরা সিদ্ধ ১৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা, মোটা সিদ্ধ ৮৫০ টাকা থেকে বেড়েছে ১০৫০ টাকা, পাইজাম ১৪০০ টাকা থেকে বেড়েছে ১৬০০ টাকা।
    পাহাড়তলী ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি জাফর আলম জানান, সরকারের ধান, চাল সংগ্রহের প্রভাব পড়েছে বাজারে। এছাড়াও বাজেটে চাল আমদানিতে ভ্যাট বাড়ানোর প্রভাবে চালের দাম বেড়ে গেছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here