বাংলাদেশেও পাতাল রেল ও বুলেট রেল হবে : প্রধানমন্ত্রী

    0
    11

    13495161_205086836558572_749500810649132783_nরাউজানটাইমস ২৪ ডেস্ক :- বাংলাদেশেও আগামীতে পাতাল ও বুলেট রেল নির্মিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এজন্য সবাইকে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জন্য কাজ করে। উন্নয়নের মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হবে। গতকাল শনিবার কমলাপুরে রেলবহরে যুক্ত হওয়া নতুন ট্রেন সোনারবাংলা এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে নতুন ট্রেন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গম এলাকাসহ দেশের সব জেলায় রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। ‘সোনারবাংলা এক্সপ্রেসে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী খিলগাঁও-শাজাহানপুর রেলগেটের ওপর নির্মিত খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নবনির্মিত লুপ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রগতি সরণীতে হাতিরঝিল প্রকল্পের দক্ষিণ ইউ-লুপের ফলক উন্মোচন করেন। জাতীয় সংসদ থেকে বের হয়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নতুন লুপ ঘুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
    নতুন ট্রেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের বুলেট ট্রেনের প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, আমরা দেশেই এই বুলেট ট্রেন চালু করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা যেন রেলের সুবিধা পেতে পারেন, সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রেলওয়ের যারা শহিদ হয়েছেন তাদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
    যা যা থাকছে ‘সোনার বাংলা’য় : দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হলো নতুন ট্রেন সোনার বাংলা। আজ সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে এ ট্রেনটি। আধুনিক সুবিধার এই ট্রেনের কোচগুলো আমদানি করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। একই দিনে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে ভারত থেকে আমদানি করা নতুন কোচ দিয়ে ধুমকেতু ট্রেনটি পরিচালনা করবে রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান বলেন, যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। একইদিনে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকা এসে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। প্রতি শনিবার বন্ধ থাকবে ট্রেনটি। চট্টগ্রাম রুটে এ নিয়ে মোট ৫টি আধুনিক ট্রেন চলাচল করবে। আগে থেকেই ঐ রুটে মহানগর প্রভাতী, সুবর্ণ, চট্টলা এক্সপ্রেস এবং তূর্ণা-নিশীথা ট্রেনগুলো চলাচল করতো।
    রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ট্রেনটিতে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৭৪৬ জন। ১৬ কোচের ট্রেনটিতে তপানুকুল (এসি) চেয়ারে সংখ্যা ২২০টি। এছাড়া শীত বার্থে (এসি কেবিন) আসন সংখ্যা ৬৬টি। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ারের সংখ্যা রয়েছে ৪২০টি। এছাড়া দুটি খাবার গাড়িতে মোট ৪০টি শোভন চেয়ার রয়েছে। যা প্রয়োজনে যাত্রী পরিবহনেও ব্যবহার করা হতে পারে। সোনার বাংলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ন্যূনতম ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। শোভন চেয়ারে ভ্রমণ করলে প্রাপ্ত বয়স্কদের জনপ্রতি ভাড়া হবে এই পরিমাণ। এছাড়া এসি চেয়ার ভ্রমনকারীদের গুনতে হবে ১০০০ টাকা এবং এসি বার্থে সিট প্রতি গুনতে হবে ১১০০ টাকা করে। তাছাড়া, এবারই প্রথম বাংলাদেশ রেলওয়েতে ভ্রমণকারীদের টিকিটের সঙ্গে খাবারের দাম পরিশোধ করতে হবে। সোনার বাংলা ট্রেনে খাবার পরিবেশন করবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। যে কোনো শ্রেণীর টিকেটের সঙ্গে খাবার বাবদ ১৯৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে যাত্রীদের। তবে রিফান্ড টিকিট হলে খাবারের দাম ফেরত দেবে রেলওয়ে।
    রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, সোনার বাংলা ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের প্রতীক। আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে সেখানে প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হবে রেলওয়ে। ২০১৭ সালে দেশের সকল প্রধান প্রধান ট্রেন রুটে নতুন করে ট্রেন দেওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী রেলপথমন্ত্রী।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here