মিতু হত্যা রহস্যের জট খুলছে

    0
    5
    জিগারুল ইসলাম জিগার : পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় জড়িত সন্দেহে চার যুবকসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ? আটকদের মধ্যে রয়েছে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালকও। এই চালকই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে চাক্তাই রাজাখালি থেকে বাকলিয়া থানার তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে নগরীর চাঁন্দগাও ও বাকলিয়া থানায় অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। থাকেন নগরীর রাজাখালীতে ভাড়া বাসায় । এরমধ্যে চারটি হত্যা, দুটি অস্ত্র ও অন্যান্য মামলা রয়েছে। মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চালক ও তালিকাভুক্ত ওই সন্ত্রাসী ব্যবসায়িক পার্টনার। রাজাখালিতে তাদের ব্যবসায়িক অফিস রয়েছে।

    ধারণা করা হচ্ছে পেশাদার খুনীরা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে। ঘটনায় সাতজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি অংশ নিয়েছে। তবে মিতুকে তারা কেন খুন করেছে তা এখনো পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়নি। টানা এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিতু হত্যাকা-ে সম্পৃৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, আমরা আশাবাদী- ভালো কিছু পাবো। আগামী শনি অথবা রবিবার ভালো খবর দেবো আশা করছি।
    গত ৫ জুলাই সকালে বাচ্চাকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাবার পথে বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিতু হত্যাকা-ে অংশ নেয়া চার যুবকসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ছাড়া মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলিকারী ব্যক্তিও রয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া ও একজনের বাড়ি হাটহাজারীতে। এরমধ্যে দুইজন ২০১২ সালে রাঙ্গুনিয়ার সংঘটিত দুটি হত্যা মামলার আসামি। তারা এ হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন দীর্ঘদিন।
    মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি বোয়ালখালী থেকে চুরি করে লালু নামে একজন পেশাদার মোটরসাইকেল চোর। দুই হাত ঘুরে গাড়িটি চলে যায় রাঙ্গুনিয়া রাণীরহাটের একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে। দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন উক্ত গ্যারেজ থেকে গাড়িটি কিনেন স্থানীয় একজন ব্যক্তি। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী ছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে ভাইয়ের কাছ থেকে গাড়িটি নগরীতে নিয়ে আসেন হেলমেট পরা সেই মোটর সাইকেল আরোহী।
    মিতু হত্যাকা-ের পর হাটহাজারীর মুছাবিয়া দরবার শরীফ থেকে আবু নসর গুন্নু ও নগরীর অক্সিজেন থেকে শাহজামান রবিন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছিলো নগর পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছিলো মিতু হত্যায় সম্পৃক্ত রয়েছে তারা এ সন্দেহে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে আনার পরও তাদের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। গুন্নুর গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পরিবর্তন করা হয় মামলার তদন্তক কর্মকর্তা। মামলার সকল কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোকতার হোসেনকে।
    বিগত এক সপ্তাহে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মিতু হত্যার সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কিনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, আমরা আশাবাদী। যখন বলবো- সবকিছু পরিষ্কার করে বলবো। আমরা ভাল খবর দিতে চাই।
    গ্রেপ্তারকৃতরা এ হত্যাকা-ে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, আপনারা বেশ কয়েকদিন অপেক্ষা করেছেন। আরেকটু অপেক্ষা করুন। আগামী শনি অথবা রবিবার ভালো খবর দেয়ার চেষ্টা করবো।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here