ভিডিওফুটেজ দেখেও কেন মুছাকে চেনেননি বাবুল ?

    0
    12

    রাউজানটাইমস ডেস্ক :- পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। চাক্তাই রাজাখালীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হানিফুল হক ওরফে এহতেশামুল হক ভোলা পিস্তলটি সরবরাহ করেছে। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ওয়াসিমের কাছে পিস্তলটি ছিল। ঘটনার সময় মুছার কাছেও একটি রিভলবার ছিল। ভোলা ও মনির নামে দুই জনকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    SARIF-5-758x525আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানিয়েছে, মুছা এবং ভোলার পরিকল্পনায় মিতু হত্যার ছক আঁকা হয়েছে। ভোলা এবং মুছা দু’জনই পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সোর্স। দু’জনেই শেয়ারে ব্যবসা করে। রাজাখালিতে তাদের অফিস রয়েছে। বাবুল আকতারের বিশ্বস্ত দুই সোর্সের পরিকল্পানায় তাঁর স্ত্রী খুন হওয়ায় হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে সন্দেহের তীর এখন বাবুল আকতারের দিকে। তবে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিতু হত্যায় বাবুল আকতার জড়িত কিংবা দায়ী কি না সে প্রসঙ্গ এখনো আসেনি।
    বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা বাবুল আকতারের স্ত্রীকে হত্যা করেছে, বাবুলকে তাদের মুখোমুখি করা হয়েছিল। তিনি এদের চেনেন কি না বা হত্যার রহস্য কী, তা উদ্ঘাটনেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কারা তাকে হত্যা করেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তা স্পষ্ট হয়েছে। যারা হত্যা করেছে, তাদের অনেককেই আমরা ধরে ফেলেছি। বাকিদের ধরার প্রক্রিয়া চলছে।’
    অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৮ সালে র‌্যাব থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) যোগ দেন বাবুল আকতার। এরপর কোতোয়ালি, হাটহাজারী, কক্সবাজার জেলা ঘুরে আবার সিএমপিতে আসেন তিনি। দীর্ঘ এ সময়ে বাবুল আকতারের সোর্স ছিল মুছা ও ভোলা। বাবুল আকতারের পাশাপাশি সিএমপির আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মুছাকে চিনতেন। নগর পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মিতু হত্যার পর মোটরসাইকেল নিয়ে মুছার চলে যাওয়া এবং হত্যাকা-ের আগে ভোরে (৫ জুন) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে মুছার হেঁটে আসার ভিডিওফুটেজ ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। মুছার ছবিটি দেখে স্বাভাবিকভাবে সেই সব পুলিশ কর্মকর্তা ও বাবুল আকতারের চেনার কথা। কিন্তু ছবিতে মুছাকে চেনার পরও ওই সব কর্মকর্তা কিংবা বাবুল আকতার নিজেই কেনই বা নিরব ছিলেন তাও অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে কি মিতু হত্যার বিষয়টি বাবুল আকতার জানতেন ?
    ভোলা গ্রেপ্তার : গতকাল মঙ্গলবার নগর পুলিশের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ‘অস্ত্রদাতা’ এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ভোলাইয়াসহ (৪১) দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত সোমবার রাত তিনটার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি পয়েন্ট ত্রি-টু বোর রিভলবার, এর ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্সটি ফাইভ বোর বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
    ভোলা রাজাখালী এলাকার মৃত সৈয়দুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার অপরজন হলো মনির হোসেন ওরফে মনির (২৮)। মনির কুমিল্লার মুরাদনগরের জাফরনগর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে। নগরীতে বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকার কবির সওদাগর কলোনির পাশে এরশাদের কলোনিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতো মনির।
    নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় অংশ নেয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে ভোলা তাদের খুনের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোলা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, মিতু হত্যায় সে অস্ত্র সরবরাহ করলেও হত্যার সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল না। হত্যাকা-ের পর অস্ত্রগুলো ফেরত নেয় সে। পরে অস্ত্রগুলো মনিরের কাছে জমা রাখে। ভোলার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। মনিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
    তিনি বলেন, অস্ত্রদাতা হিসেবে ভোলাকে মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কার নির্দেশে হত্যাকা-টি ঘটানো হয়েছে এ ব্যাপারে জানতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    কিন্তু মিতু হত্যার সঙ্গে মনিরের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তবে তার নামেও বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
    রিমান্ডের আবেদন : গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার ভোলাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হাসান চৌধুরীর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই মামলায় ভোলাকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
    একইভাবে মনিরকে মহানগর হাকিম নওরিন আক্তার কাঁকনের আদালতে হাজির করা হয়। তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। অস্ত্র মামলায় ভোলা ও মনিরকে ১০ দিনের রিমা-ে নেয়ার আবেদন জানায় পুলিশ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here