মাটিরাঙ্গায় স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

    0
    4

    চট্টগ্রাম : খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় স্বামী ও স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মো. এনামুল হক (৫০) ও তাঁর স্ত্রী মোছাম্মৎ পারভীন আকতারের (৩৫) লাশ গতকাল বুধবার পুলিশ উদ্ধার করেছে। নামে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।Ramgarh-29-06-16-733x525মঙ্গলবার বিকাল বা সন্ধ্যা বেলায় এ জোড়া খুন সংঘটিত হয় বলে পুলিশের অনুমান। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় আবু তালেব (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা বেচাকেনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মরা তাইফা গ্রামের বাসিন্দা মো. এনামুল হক গত মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে স্ত্রী পারভীন আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ইজারা নেয়া জলাশয়ে মাছ ধরতে যান। জলাশয়টি তাদের বসতবাড়ি হতে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তারা ঘরে ফিরেননি। বুধবার সকালে মেঝো ছেলে সালাউদ্দিন বাবা-মাকে খুঁজতে গিয়ে ওই জলাশয়ের পাশে দু’জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে বাড়ি ফিরে প্রতিবেশীদের জানায়। পরে খবর পেয়ে মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল হতে লাশ দুটি উদ্ধার করে। নিহত এনামুলের ছেলে সালাউদ্দিন(১০) জানায়, মঙ্গলবার রাতেও বাবা-মা বাড়িতে না ফেরায় তারা তিন ভাই ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে তারা উপোস ছিল। বুধবার সকালে ঘুম থেকে ওঠে বাবা-মা ঘরে ফেরেনি দেখে সে তার এক প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে তাদের খোঁজে বের হয়। পরে ওই জলাশয়ের কিনারায় বাবা-মার মৃতদেহ দেখতে পায় তারা। সালাউদ্দিন জানায়, তারা চার ভাই। বড় ভাই চট্টগ্রামে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। স্থানীয়রা জানান, এনামুল হক পেশায় শ্রমজীবী। তিনি ইজারা নেয়া জলাশয়ে মাছ চাষ ছাড়াও ওই এলাকায় অন্যের আম বাগানের কেয়ারটেকার হিসাবেও কাজ করতেন। স্বামীকে এসব কাজে সহায়তা করতেন স্ত্রী পারভীন আক্তার। বড় ছেলে চট্টগ্রামে চাকুরি করলেও অপর তিনজনই বয়সে শিশু। বাবা মাকে হারিয়ে এতিম হওয়া শিশু পুত্ররা নির্বাক হয়ে গেছে।
    মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকালে খবর পেয়েই তিনি ফোর্স নিয়ে দুর্গম মরা তাইফা এলাকায় ওই ঘটনাস্থল যান। মকবুলের জলাশয়ের কিনারায় পাশাপাশি পড়ে থাকা অবস্থায় এনামুল ও তার স্ত্রী পারভীনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, নিহত স্বামী ও স্ত্রী দুজনেরই মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। দু’জনকেই কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বিকাল বা সন্ধ্যার কোন এক সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত এনামুল হকের ছোট ভাই মো. শামিম বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় বুধবার একটি হত্যা মামলা (নম্বর-৩, তারিখ ২৯/৬/১৬) দায়ের করেছেন।
    মাটিরাঙ্গা থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটু জানান, মামলা রুজুর পরই বুধবার বেলা ২টার দিকে পুলিশ মাটিরাঙ্গার আলুটিলা গ্রাম থেকে আবু তালেব (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি একজন ভূমি দালাল। মামলার এজাহারে খুনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। তিনি বলেন, নিহত এনামুল হক ও গ্রেপ্তার হওয়া আবু তালেব দু’জনই বেলছড়ির ওই প্রত্যন্ত এলাকায় টিলাভূমি কেনাবেচায় ব্রোকারি (মধ্যস্থতাকারী) করে থাকে। এতে তারা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন। এছাড়া বাহির থেকে আসা ব্যক্তিদের ক্রয় করা জায়গা ও বাগান বাগিচা দেখাশুনার কাজও করেন তারা। ওসি আরও জানান, জায়গাজমি কেনাবেচার মধ্যস্থতা করা নিয়ে এনামুলের সাথে আবু তালেবের বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে খুনের ঘটনা হয়েছে বলে এনামুলের স্বজনদের সন্দেহ। তিনি আরও বলেন, পুলিশি তদন্তে হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।
    এদিকে জোড়া খুনের ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী ও রামগড় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ হত্যাকা-ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। রামগড় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হয়তো এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও হত্যাকারীদের ধরতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here