লালদিঘীতে চলছে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা

    0
    6

    নিউজরুম এডিটর, রাউজানটাইমস :-

    ‘জীবিকার জন্য গাছ, জীবনের জন্য গাছ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীর লালদিঘী ময়দানে চলছে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা।  বন বিভাগের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

    Tree-Fair-bg20160801104854আয়োজক সূত্র জানায়, মেলায় ৫০টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে।  এতে ন্যাশনাল নার্সারি, বনরুপা নার্সারি, বাংলাদেশ নার্সারি, বাহাদুর নার্সারি, এনজিএস নার্সারি, কসমো নার্সারি, চন্দনগর নার্সারি, চিটাগাং নার্সারি, পুস্প নার্সারি, পুষ্পকলি নার্সারি, নিউ কসমো নার্সারি, আরণ্যক নার্সারি, এগ্রোফিল্ড প্রোডাক্ট নার্সারি, কোডেক, বনসাই নার্সারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে।

    মেলায় বন বিভাগের বিভিন্ন তথ্যকেন্দ্রে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি বৃক্ষের বিবরণ, বৃক্ষের নানাবিধ গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে। মেলায় সূলভ মুল্যে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ ছাড়াও অনেক দূর্লভ গাছও পাওয়া যাচ্ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

    এর আগে রোববার বেলুন উড়িয়ে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়।  জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আব্দুল লতিফ মিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোঃ জগলুল হোসেন। নার্সারী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কান্তি শীল, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সদস্যদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নুরুল আমিন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন বলেন, ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম একটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে প্রায় প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। তাই এই ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে হলে বেশি বেশি গাছ রোপন করতে হবে।  গাছ যেমন বনাঞ্চল বৃদ্ধি করে ঠিক তেমনি জীবন-জীবিকার সহায়ক। তিনি দারিদ্র বিমোচনসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, নিজেদের বাঁচার তাগিদে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। একটি গাছের চারা লাগালে এক সময় তা মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, গাছ লাগালে নিজে যেমন লাভবান হওয়া যায় ঠিক তেমনি দেশেরও লাভ হয়। তিনি সবাইকে কমপক্ষে একটি করে গাছের চারা রোপণ করার আহ্বান জানান।

    স্বাগত বক্তব্যে ড. মো. জগলুল হোসেন এবার চট্টগ্রাম জেলার চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভের কথা উল্লেখ করেন। তারা হলেন স্কুল পর্যায়ে রাউজান সুরেশ বিদ্যায়তন ১ম পুরস্কার, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী শ্রেণিতে খন্দকিয়া বাথুয়া ভুলিয়াপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা দল, বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন শ্রেণিতে মানিক চন্দ্র দাশ ও সারথী রানী দাশ পুরস্কার লাভ করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।  ৮৬ হেক্টর বাগানের জন্য মোট ৮৪ জন উপকারভোগীদের মধ্যে ৪৫ লভ্যাংশ হিসেবে ৯৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯শ’ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

    এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ কর্তৃক ২০১৫-১৫ অর্থ বছরে ১৯৬ হেক্টর কৃষিবাগান এবং ৬ কিলোমিটার বাগানের গাছ বিধিমোতাবেক ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯শ’ ৮৪ টাকায় বিক্রয় করে মোট ২৩৩ উপকারভোগীদের মধ্যে ২ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ২ শত ৭০ টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here