শিশু একাডেমিতে শিশুতোষ ভাস্কর্য ‘বাঁধনহারা’ উদ্বোধন

    0
    13

    রাউজানটাইমস  ডেস্ক :-

    শিশু একাডেমি থেকে ভেসে আসছে নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ। একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল বর্ণিল সাজসজ্জায় মুখর হয়ে আছে পুরো একাডেমি। বলা যায়, অনেকটা উৎসবের আমেজ এখানে। কেউ লাল, কেউ নীল আবার কেউ সবুজের মিশেলে রাঙিয়েছে নিজেদের। আবার কেউ মোমবাতি নিয়ে ছোটাছুটি করছে দিকবিদিক। সাথে রয়েছে শিশুদের অভিভাবকও। এমন মিলনমেলা ‘বাঁধনহারা’ শিশুতোষ নৃত্য ভাস্কর্য উন্মোচন উপলক্ষে। শিশু একাডেমির মূল ফটক থেকে একটু দূরেই দেখা মিলল এই ভাস্কর্যটির। ঘাঘরা পরিহিত ভাস্কর্যটির পায়ে নুপুর, দু’হাতে বিশেষ মুদ্রা, বিনুনি দুলিয়ে তাকিয়ে আছে উর্ধ্বপানে। নৃত্যের ভঙ্গিতে দাঁড়ানো সফেদ রঙে রাঙানো ভাস্কর্যটি শোভা পেয়েছে কালো বেদির উপরে। এই শিশুতোষ ভাস্কর্যের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে একাডেমিতে। তার পাশেই শোভা পাচ্ছে altaf-5-521x525কিশোরকাল নামকরণে ব্যাট বল হাতে আরেকটি ভাস্কর্য।
    ‘বাঁধনহারা’ নামের এই শিশুতোষ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এই উপলক্ষে গতকাল রবিবার জেলা শিশু একাডেমি ভবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দৌলতুজ্জামান খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রি ইশরাত জাহান, জামালুর রহমান খান বিজ্ঞান-প্রযুক্তি স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ মো.আব্দুল মোমেন, ইলমার নির্বাহী প্রধান জেসশিন সুলতানা পারু, খেলাঘর সভাপতি এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি ইকবাল হোসেন।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের শৈশবকালীন সময়ে সাংষ্কৃতিক পরিম-লে বেড়ে ওঠা বিশেষ প্রয়োজন। সময়ের যত অপসংস্কৃতি তাকে রোধ করতে বিশেষ ভূমিকা থাকে সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোর। তাই প্রত্যেক মানুষকে নিজেদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক আবহ।’
    অনুষ্টানে বক্তারা আরো বলেন, ‘শুদ্ধ সংষ্কৃতি চর্চায় সকল অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পারে। অন্ধকারশেষে আলো আসবে। তার জন্যই আমাদের সাংষ্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
    জাতীয় সংগীতের মাধ্যমেই শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন। এরপর কথামালা, সঙ্গীত আর নৃত্য। সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রাম জেলার চারটি দল। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, খেলাঘর, জামালুর রহমান খান বিজ্ঞান প্রযুক্তি স্কুল এন্ড কলেজ, চন্দনাইশ্ তৈলারদ্বীপ বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
    ‘ছায়া ঘেরা পথ আমার গায়ে’, ‘নদীর মাঝি বলে’, ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ’, ‘নৃত্য-মন মোর মেঘের সঙ্গী’ এই গানগুলিই সক্সগীত আর নৃত্যেও মাধ্যমেই পরিবেশন করে অংশগ্রহণকারী সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পরিবেশন করে দলীয় সংঙ্গীত ‘ছোট ছোট ঢেউ তুলি’।
    সবশেষে সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণকারী দলগুলো আর শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here