দেশি গরুর উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ শতাংশ

    0
    5
    নিজস্ব প্রতিবেদক । রাউজানটাইমস
    চট্টগ্রামে গত এক বছরে দেশি গরুর উৎপাদন বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। গত কোরবানিতে গরু মূল্য বৃদ্ধিতে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খামারি ও পারিবারিক পর্যায়ে গরু পালনকারীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকার গরু উৎপাদনে উৎসাহিত করতে গ্রামে গ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ধানের মতো পশু উৎপাদনেও দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    SHARIF-2-800x522জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানিতে পশু জবেহ হয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৫০টি। দেশি গরুর উৎপাদন ছিল তিন লাখ ২০ হাজার। এক বছরে গরু উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৭৪৫টি। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
    প্রাণিসম্পদ বিভাগ আরও জানায়, ২০১১ সালে গরু জবেহ করা হয়েছে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৭টি। ২০১২ সালে জবেহ করা হয়েছে চার লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৯টি। ২০১৩ সালে জবেহ করা হয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার ৩৫টি। ২০১৪ সালে জবেহ করা হয়েছে চার লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৯টি। প্রতি বছর ১৫ শতাংশ কোরবানিদাতা বাড়ছে বলে জানায় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। কোরবানিতে দেশীয় গরুর চাহিদা বড় অংশ পূরণ করবে। কোরবানির চাহিদার অবশিষ্ট গরু তিন পার্বত্য জেলা ও অন্যান্য জেলা থেকে সরবরাহকৃত গরু দিয়ে মেটানো হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জসিম পূর্বকোণকে বলেন, গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খামারি ও পারিবারিকভাবে গরু উৎপাদন বাড়ছে। এজন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ পশু উৎপাদনে নানা কর্মসূচি পালন করে চলেছে। সরকারের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট (স্বাস্থ্যবান) ও লাভজনক বিষয়ে খামারি এবং গরু লালন-পালনকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখা ও গ্রাম পর্যায়ে দুই দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হলে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু স্বাস্থ্যবান করতে দিনে ৬৮ টাকার খাবার সাশ্রয় হবে। গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ন্যায্যমূল্যের দোকান ও রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে ধান, চালের মতো পশুতে স্বয়ংসসম্পূর্ণতা অর্জন করতে বেশি সময় লাগবে না।
    এদিকে কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কোরবানিদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তবে দেশি গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি, তিন পার্বত্য জেলা, মিয়ানমার থেকে গরু আসতে শুরু করায় কোরবানিতে সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও গরু ব্যবসায়ীরা।
    গরু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অলি আহমদ জানান, এই বছর দেশীয় খামারিদের মধ্যে গরু লালন-পালন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কোরবানিতে পশুর তেমন সংকট হবে না।
    তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে ভারতীয় সীমান্তে গরু আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবুও ভারতীয় সীমান্ত পথে বিচ্ছিন্নভাবে গরু আসছে। সীমান্তের রাজশাহীর ফুটখালী, বাগেরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, যাত্রাপুর, কুঁড়িগ্রাম ও বেনাপুলের কয়েকটি পয়েন্টে গরু আসছে।
    অলি আহমদ আরও জানান, প্রতি বছর চাঁদ ওঠার পর সীমান্তের কড়াকড়ি কিছুটা শীথিল হয়। এই বছরও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
    বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ট্রাকে ট্রাকে গরু আনছেন। নগরীর স্থায়ী ও অস্থায়ী ৮টি গরুর বাজারে প্রচুর গরু আনা হয়েছে। এছাড়াও পাড়া-গাঁয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রচুর গরু এনেছেন। গরুর সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে। এই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
    গরু বেপারিরা জানিয়েছেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আনার সময় ঘাটে ঘাটে দুর্ভোগ ও চাঁদাবাজি চলছে।
    গতকাল নগরীর দুটি বড় বাজার সাগরিকা ও বিবির হাট গরু বাজারসহ অস্থায়ী ৬টি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে গরুর সরবরাহ বেড়েছে। তবে এখনো কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়নি।
    রাজশাহী থেকে গরু আনা মৌসুমি ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব জুয়েল জানান, রাজশাহী বিভিন্ন হাটেও দেশীয় লালন-পালনকারী গরুর সংখ্যা বেশি। ভারতীয় সীমান্তপথে সীমিত সংখ্যক গরু আমদানি হচ্ছে। তবে চাঁদ ওঠার পর কড়াকড়ি শীথিল হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। তবে গরুর দাম বাড়তি বলে জানান এই মৌসুমি ব্যবসায়ী।
    সাগরিকা ও বিবির হাট ইজারাদাররা জানান, গত তিন-চারদিন ধরে বাজারগুলোয় প্রচুর পরিমাণ ট্রাক ঢুকছে। দিন দিন গরুর সরবরাহ বাড়ছে।
    রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষ্মীরা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামের প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রচুর গরু আসছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here