প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা : লাভের মুখ দেখছে কোদালা চা বাগান

    0
    11

    জিগারুল ইসলাম জিগার : রাঙ্গুনিয়া

     14355667_697384083749893_6853406226884361568_nরাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা চা বাগান সবুজের সমারোহে ভরে গেছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে চা গাছে নতুন পাতা গজিয়ে উঠতে শুরু করায় চা বাগানে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি চা পাতা সংগ্রহ করা যাবে বলে জানান বাগান কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী এই বাগানে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিও সংস্থা ব্র্যাক কোদালা চা বাগানটির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে সরকারি রাজস্ব খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিগত মৌসুমে প্রায় ১ কোটি টাকার ভূমি ও চা পাতা বিক্রয় কর প্রদান করে দেশের প্রথম এই বাণিজ্যিক চা বাগানটি। এছাড়াও কর্ণফুলীর বাঁকে সবুজ পাহাড় বেষ্টিত বাগানের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও বর্তমানে চা বাগানের কঁচি পাতাগুলো সবার দৃষ্টি কাড়ছে। গ্রামীণ পরিবেশে পর্যটকদেরও দৃষ্টি কেড়েছে কোদালা চা বাগান। জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে চা শ্রমিকদের। মান্দাতার আমলের বেতন ভাতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেশের অন্যান্য পেশার শ্রমিকদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চা ও রাবার বাগানের পাশাপাশি নানা প্রজাতির গাছের চারা বনায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আম, আগর, নিম ও মুলি বাঁশের চাষও করা হয়েছে এই বাগানে। নগর জীবনের একপেশে ক্লান্তিময় জীবনকে মুহূর্তে প্রশান্তিতে ভরিয়ে তোলা এক পর্যটন কেন্দ্রের নাম রাঙ্গুনিয়ার কোদালা চা বাগান। একদিকে পাহাড়ঘেরা সবুজের সাথে মেঘের লুকোচুরির অপূর্ব সন্ধির দৃশ্য, অন্যদিকে চা বাগানের পাশঘেঁষে লুসাই কন্যা কর্ণফুলীর মন মাতানো ঢেউ যে কাউকে মুহূর্তে সতেজ করে দেবে।

    প্ল্যান্টার্স বাংলাদেশ ও আনোয়ার গ্রুপ কোদালা চা বাগান করে লাভের মুখ না দেখলেও ব্র্যাক কোদালা চা বাগান লিজ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দক্ষ পরিচালনায় চা বাগানটি এখন ব্র্যাকের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশের চা শিল্পে কোদালা চা বাগানের চা গুনগত মান ও শীর্ষ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। দেশের চা বাগানের মধ্যে কোদালা চা বাগানই সর্বপ্রথম বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
    বর্তমানে কোদালা চা বাগানে ৩৩৬ হেক্টর জায়গায় চা চাষ করা হয়েছে। কোদালা চা-বাগানের পাতা সারাদেশে মানের দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। কোদালা চা বাগান সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৩ লাখ ৪৬ হাজার কেজি চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে। বিগত বছরে লক্ষ্যমাত্রা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় চলতি অর্থবছরে ৪ লাখ কেজি পাতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কোদালা চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক রাশেদ মাহমুদ রুবেল জানান, দেশের ১৬২টি চা-বাগানের মধ্যে বিগত বছর পঞ্চম অবস্থানে ছিল কোদালা চা বাগান। বর্তমানে মানগত দিক থেকে কোদালা চা-বাগান দশম অবস্থানে রয়েছে। নতুন করে আগামী অক্টোবরে ২৫ একর চা বাগান সৃজন করা হবে। বর্তমানে চা-বাগানের অভ্যন্তরে ৫২৭ জন শ্রমিক-কর্মচারী দৈনিক ১৭০ টাকা বেতন ছাড়াও ফ্রি চিকিৎসা, রেশন, বাসস্থান, শিক্ষাসহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। উৎপাদনের বিক্রয়কৃত অর্থ থেকে সুনির্দিষ্ট হারে সরকারকে ভ্যাট প্রদান করা হয় বলেও জানান তিনি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here