ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ প্রেসিডেন্ট: তবে ট্রাম্প কে?

    0
    12

    বুলগেরিয়ার এক অন্ধ নারী ভবিষ্যত দ্রষ্টা বাবা বঙ্গ ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্টটিই হবেন দেশটির শেষ প্রেসিডেন্ট। তার

    পরেই দেশটিতে শুরু হবে দুর্যোগের প্রহর।
    বুলগেরিয়ার সেই অন্ধ নারী ভবিষ্যত দ্রষ্টা বাবা বঙ্গ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হবে আফ্রো আমেরিকান। সেই অর্থে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তবে বাবা বঙ্গ সতর্ক করে এও বলেছিলেন, বারাক ওবামাই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তারপর? তারপর যিনিই আসুক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায়, বিশাল এক আর্থিক দুর্যোগের ভবিষ্যতবাণী করে গেছেন বাবা বঙ্গ। বলেছেন, তিনি চেষ্টা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবাই তার ওপর আস্থা রাখবেন, কিন্তু ফল হবে বিপরীত। তিনি ক্ষমতায় যেয়ে চেষ্টা করবেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পাবে, অশান্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়বে। পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণ থেকে আয়ত্বের বাইরে বের হয়ে যাবে।
    বাবা বঙ্গকে আরেক ভবিষ্যত দ্রষ্টা নষ্ট্রাদামাসের সঙ্গে তুলনা করে বলকানরা। বাবা বঙ্গের ভবিষ্যতবাণী অন্তত ৮৫ভাগ মিলে গেছে। তিনি বলেছিলেন, ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটবে। ঘটেছে। দুটি ইস্পাতের পাখির আক্রমণ ঘটবে। দু’টি উড়োজাহাজ দিয়েই সন্ত্রাসীরা আঘাত হেনেছে টুইনটাওয়ারে। আইএস জঙ্গি, সুনামি, আরব বসন্ত, সিরিয়া যুদ্ধ সহ একাধিক ভবিষ্যৎ বাণী যা যা করে গেছেন তা এখন পর্যন্ত সঠিক হয়েছে।
    ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হয়েছেন নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০শে জানুয়ারি তিনি শপথ নেবেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। মিডিয়া একে নির্বাচনী দাঙ্গা বলছে। টুইটার সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। টেকনিক্যালি বারাক ওবামা এখনো প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। অন্তত দু’মাস অপেক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া আর ওরেগনের মানুষ স্বাধীনতা চেয়ে বসেছেন। গোলাগুলির ঘটনায় মানুষের আহত হবার ঘটনা ঘটছে। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না দেশটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজারো মানুষ।
    ৮৫ বছর বয়সে বাবা বঙ্গ ১৯৯৬ সালে মারা যান। জীবদ্দশায় শতাধিক ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন তিনি। তবে যত অঘটনের ভবিষ্যৎবাণী করেছেন তিনি, সামান্য হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তি ফিরে আসবে তাও বলেছেন। বর্তমানে সিরিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে তা স্থায়ী হবে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত। তারপর রোম কেন্দ্রিক খলিফার শাসন কায়েম হবে। এরপরের বছর ইউরোপের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে। পতিত জমির বিস্তার ঘটবে সারা ইউরোপ জুড়ে। জীবনের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
    বাবা বঙ্গ সুনামির ভবিষ্যৎবাণী করে বলেছিলেন, বিশাল বিশাল ঢেউ সাগর থেকে উঠে আসবে। ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ঘর বাড়ি মানুষ শহর সবকিছু। সবকিছু তলিয়ে যাবে। ২০০৪ সালে সুনামি ঘটে। ১৯৮৯ সালে বাবা বঙ্গ ভবিষ্যৎবাণী করেন, নিউইয়র্কে দুটি ইস্পাতের বিশাল পাখি আঘাত হানবে। টুইন টাওয়ারে উড়োজাহাজ হামলার ঘটনা ঘটে যা সন্ত্রাসী হামলা বলেই উল্লেখ করেছিলেন বাবা।
    ৬০ বছর আগেই বাবা বঙ্গ বলেছিলেন, আবহাওয়ায় বিরূপ পরিবর্তন ঘটবে। তাপমাত্রা বাড়বে। সমুদ্রের পানি সীমার উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত বরফ গলবে। অটোমান সাম্রাজ্যের এক পার্বত্য এলাকার এক পাহাড়ের পাদদেশের গ্রাম স্ট্রুমিকায় বাবা বঙ্গের জন্ম। একদিন এক ঝড়ের হিংস্র ঝাপটা হাওয়ায় বাবা বঙ্গ মাটিতে পড়ে যান। এরপর তিনি অন্ধ হয়ে গেলেও ভবিষ্যৎবাণী করার এক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা প্রাপ্ত হন। এবং তার এ ক্ষমতার কথা ছড়িয়ে পড়লে তাকে অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে ধনাঢ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিশ্বের আনাচে কানাচে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছাড়াও অনেক রাষ্ট্রনায়ক ভবিষ্যৎবাণীর জন্যে বাবা বঙ্গের শরণাপন্ন হতেন।
    মারা যাওয়ার আগে বাবা বঙ্গ বলে গেছেন, ২১৩০ সালের মধ্যে এলিয়েনরা মানবসভ্যতাকে পানির নীচে বাস করতে সাহায্য করবে। ৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহে যুদ্ধ শুরু হবে। আরেক ভবিষ্যৎবাণীতে বাবা বঙ্গ বলেছেন, বিশ্বের সবকিছু মারা যাবে ৩৭৯৭ সালের মধ্যে। কিন্তু তার আগে মানব সভ্যতা মহাকাশে নতুন জীবন ব্যবস্থার গোড়া পত্তন করতে শিখে যাবে। [সূত্র : ডেইলি মেইল]

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here