চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে গাউছুল আজম কনফারেন্সে লাখো আশেকে মোস্তফার ঢল

    0
    14

    নেজাম উদ্দিন রানা, চট্টগ্রাম থেকে : কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদে আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন, খলিলুল্লাহ আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসূল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) ছিলেন সর্বোত্তম এক ইসলামী দার্শনিক, পথহারা মুসলিম যুব সম্প্রাদায়কে সংস্কারের ব্যাপারে ছিল তাঁর নিজস্ব দর্শন, কর্মপন্থা ও বাস্তব তৎপরতা। পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা কর, বিপথগামীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান নয়, বরং পরম স্নেহ-মমতায় তাদেরকে কাছে টানতে হবে এ দর্শনের আলোকে তিনি অগনিত পথভ্রষ্টকে নূরে মুহাম্মদীর জ্যোতিতে হেদায়াতের প্লাবনে সমাজের চতুর্দিকে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছেন।
    তিনি আজ ২৬ ডিসেম্বর সোমবার চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের ঐতিহাসিক গাউছুল আজম কনফারেন্সে লাখো সুন্নি জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে এ কনফারেন্সের আয়োজন করে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ।
    তিনি আরও বলেন, ইসলামের খেদমতে ও শিক্ষার প্রসারে গাউছুল আজম (রাঃ) নির্মাণ করেছেন দেশ-বিদেশে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও পাঠাগার। শেষ জীবনে এসে তিনি নিজের সঞ্চিত সব অর্থ কাগতিয়া কামিল এম.এ. মাদ্রাসায় দান করার মধ্যে দিয়ে গভীর রাসূলপ্রেম ও দেশে ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসারে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে বিরল।
    কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন বংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারের্ছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লা¬মা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, এলবিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনতাহার উদ্দিন সাকিব।
    কনফারেন্সে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া।
    আল্লা¬মা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্ল¬¬¬াহ্ আহমদী যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, গাউছুল আজম (রাঃ) এর দৈনন্দিন জীবন-কর্ম, তরিক্বত, আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ-অনুকরণ করলে একজন সাধারণ যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থীর জীবন সততা, সৎচিন্তা-চেতনা ও সাফল্যে ভরে ওঠবে। তারা কোরআন-সুন্নাহ্র দিকে ধাবিত হবে। যার ফলে উপকৃত হবে তাদের মা-বাবা, পরিবার থেকে শুরু করে গোটা সমাজ।
    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, যুগশ্রেষ্ঠ অলী গাউছুল আজম (রাঃ) এর যোগ্য প্রতিনিধি অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী এ দরবার, তরিক্বতের প্রচার-প্রসার ও আধুনিক যুগোপযুগী ইসলামী শিক্ষার প্রসারে যে বিপ্লব সাধন করে চলেছেন – তা এককথায় অসাধারণ।
    এহছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল বলেন, কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রাঃ) মুসলিম মিল্লাতের অহংকার। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহান এ ব্যক্তির অবদান মানুষ কখনো ভুলবে না, যুগ যুগ ধরে তাঁর এ কর্ম ও কীর্তির কথা দেশ ও জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
    প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া বলেন, কিংবদন্তীতূল্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব গাউছুল আজম (রাঃ) অগনিত বিপথগামী যুবককে আলোর পথ প্রদর্শন, ইসলামের খেদমত, সুন্নাতে মোস্তফার প্রচার, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার সহ বহুমুখী কর্ম ও কীর্তির মাধ্যমে যে ইতিহাস রচনা করেছেন তা চির অম্লান থাকবে।
    কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোঃ আবুল মনছুর, বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেছীন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মোবাশ্বেরুল হক নাঈম, নানুপুর গাউছিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দীন মাদানী, নাজিরহাট জামিয়া মিল্লিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুস্তাফির রহমান, নাজিরহাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দীন চৌধুরী, গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ ইংরেজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাসান,সিটি কর্পোরেশন ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ আজম প্রমুখ।
    এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, মাওলানা সেকান্দর আলী ও মাওলানা মুহাম্মদ ফোরকান।
    কনফারেন্সে দেশবরেণ্য বহু ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ছাড়াও সর্বস্তরের লাখো সুন্নি জনতা উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সে যোগদানের উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কাগতিয়া দরবারের অনুসারী ও ভক্তরা বাংলাদেশে আসতে থাকে। ঐদিন সোমবার সকাল থেকেই চট্টগ্রামের সব উপজেলা, কক্সবাজার, মহেষখালী, চকরিয়া, ফেনী, কুমিল্লা, বি-বাড়িয়া, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান গাড়িযোগে লালদীঘি ময়দানে জড়ো হতে শুরু করে। মাগরিবের আগেই কনফারেন্সস্থল লালদীঘি ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা জেল রোড, কেসিদে রোড, কোতোয়ালী মোড় এবং তৎসংলগ্ন উঁচু ভবনের ছাদ ও সড়ক জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রতি বছরের মতো এবছরও মুনিরীয়া যুব তবলীগের গাউছুল আজম কনফারেন্সকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন উপজেলার প্রধান সড়কে তোড়ন উত্তোলন করা হয়। মিলাদ ও কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here