হাজারো ভক্তের অশ্রু সজল নয়নে রাউজানের সুন্নি আন্দোলনের বট বৃক্ষের বিদায়

    0
    30


    এম. বেলাল উদ্দিন/ এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন :- ইমাম আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাসেমী (ম,জি,আ)’র বেয়াই রাউজান হলদিয়া উত্তর সর্তা নিবাসী আলহাজ্ব আল্লামা সৈয়্যদ আসহাব উদ্দিন এর নামাজে জানাযা গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় দমদমা নুরুল উলুম আহমদিয়া আজিজিয়া মাদ্রাসার বিশাল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন গহিরা আলিয়ার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব সৈয়্যদ নুরুল মোনাওয়ার (ম,জি,আ)। এর আগে বৃহস্পতিবার বাদে মাগরিব চট্টগ্রামের আহসানুল উলুম কামিল মাদ্রাসা ময়দানে আল্লামা কাজী নুরুল ইসলাম হাসেমী (ম,জি, আ) ইমামতিত্বে প্রথম দফা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দুই দফা জানাযা শেষে তাকে নিজ গ্রাম হলদিয়ার দমদমা মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। নামাজে জানাজায় হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহন করেন। তার ঈছালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে রাউজানের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার সারারাত ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা ছাত্ররা পবিত্র কোরআন খতম, তাহলিল, মিলাদ ক্বিয়াম পরিচালনা করেন। তার মৃত্যুতে সমগ্র সুন্নিয়তের অঙ্গনে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। ৫৩ বছর বয়সী মওলানা আসহাব উদ্দিন অত্যান্ত ছোটকালে আদরের পিতা মওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ ইউছুফকে হারিয়ে মমতাময়ী মায়ের হে বড় হয়ে সুন্নিয়তের ব্যপক খেদমত করে সমগ্র চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া থেকে দাখিল,১৯৮৩ সালে একই মাদ্রাসা থেকে আলিম,১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম থেকে ফাজিল,১৯৮৭ সালে একই মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সহিত কামিল পাশ করেন। এর আগে যখন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠিত হয় সে প্রথম বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী কামিল পাশ করার পর তিনি ১৯৮৯ সালে রাউজান উত্তর সর্তা দমদমা মাদ্রাসায় সহকারী মৌলানা হিসেবে যোগদান করে মহান শিক্ষকতার পেশা শুরু করেন। ৩ বছর এই পদে থাকার পর ১৯৯২ সালে তিনি ঐ মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক (সুপার) পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৪ বছর অত্যান্ত সুনামের সহিত মাদ্রাসার এই গুরু দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ১৯৯৭ সালে চলে যান দুবাইতে। সেখানে যৌথ মালিকানায় টাইপিষ্টের দোকানে যাওয়া আসায় দীর্ঘ ১৩ বছর কাটানোর পর তার শরীরে ধরা পড়ে কিডনির সমস্য। এর পর দেশে ফিরে এই মহান মানুষটি ৪ বার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে ডাক্তাররা তার দুটি কিডনি নষ্ঠ বলে জানিয়ে দেন। সে ২০১০ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাপ্তাহে ৩/৪ বার ডায়ালাসিস করে করে কোন মতে রুহ নিয়ে বেচেঁ ছিলেন সুন্নীয়তের বীর এই সৈনিকটি। এরপরও সুন্নীয়তের সাংগঠনিক কাজের জন্য একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুর সংবাদ বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ প্রচারিত হলে তার সংগঠনের নেতা কর্মীরা শোকে মুহ্যমান হয়েপড়ে। নামাজে জানাযায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আল্লামা এম মান্নান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আল্লমা হাফেজ ছোলায়মান আনছারী, ইসলামী ফ্রন্টের যুগ্ন মহাসচিব স.উ ম আবদু সমাদ, বিশিষ্ট লেখক মুহাদ্দিস আলহাজ্ব আল্লামা ইব্রাহীম আল কাদেরী, মরহুমের জামাতা আলহাজ্ব আবুল ফোরকান হাসেমী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক এইচ এম শহীদুল্লাহ, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। এদিকে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে মরহুমের পরিবার বর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে আনজুমানে খোদ্দামুল মোসলেমিন ইউএই কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক স.ম হারুনুর রশিদ, নাছির উদ্দিন সিকদার, নির্বাহী সদস্য আলহাজ সালামত উল্লাহ বাবুল, রাউজান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সমন্বয় কমিটির পক্ষে অধ্যক্ষ আল্লামা ইলিয়াছ নুরী, মাওলানা ইয়াছিন হোসাইন হায়দরী, সৈয়দ মুহাম্মদ হোসাইন, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, আবুল কাসেম রেজবী, জয়নাল আবেদীন জামাল, শামসুল আলম নঈমী, মাওলানা সৈয়দ হাসান মুরাদ কাদেরী, সৈয়দ মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, আহসান হাবিব চৌধুরী হাসান, আমান উল্লাহ আমান, আলী সিদ্দিকী, রাউজান প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাওলানা এম. বেলাল উদ্দিন, রাউজান প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন, মাওলানা জিরাজুল ইসলাম রিজবী, আলমগীর হোসেন, ইলিয়াছ রেজা, সৈয়দ শওকত হোসেন রেজবী, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন শাওন, আলমগীর হোসেন, আজাদ রানা, নুর মোহাম্মদ, আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল রোমান, শামসুল আরেফীন, রবিউল হোসেন সুমন, জয়নাল আবেদীন জাবেদ প্রমুখ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here