রাউজানের ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    0
    3
    জাহেদুল আলম । রাউজানটাইমস ২৪.কম
     গত ৮ এপ্রিল ৩টা ৪৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন ‘আজ আমি বড় একা, প্রতিটা সময়, প্রতিটা মুহূর্ত শুধু কথা মনে পড়ে, সত্যয় তোমাকে খুব মিস করতেছি। হারানোর বেদনা সেই বুঝে

    হারিয়েছে।’ আবেগঘন এই স্ট্যাটাস দেয়ার ১৭ দিনের মাথায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রাউজানের টুটুল কে পালিত’র লাশ উদ্ধার হলো নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে। সে স্ট্যাটাসেই ফুটে উঠে তার সাথে কোনো এক নারীর সম্পর্ক ছিল। ওই নারীতে কষ্ট পেয়ে হয়তো মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন টুটুল। টুটুলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার ফেসবুক ফ্রেন্ডস কিংবা কাছের বন্ধুরা। দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পরিচিত মুখ টুটুল পালিত। তার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে নানা মন্তব্য। তার অগ্রজ রাজনীতিক মাসুদ সিটিজি ফেসবুকে লেখেন ‘মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। মুজিবআদর্শের রাজপথের সাহসি সৈনিক ছোটভাই টুটুল আর নেই। নিজের মনকে বিশ্বাস করাতে পারছি না। কাউকে ভালোবাসলে তাকে না পেলে এইভাবে অভিমানে চলে যেতে হয় ? সপ্তাখানেক আগে থেকে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে বুঝতে পারছিলাম তার মন খারাপ। গত দুই তিন দিন আগে আমাকে ফোন করেছিলো, ব্যস্ততার কারণে শোনা হলো না তার কথা। কি বলতে চেয়েছিলো ভাইটা ? হয়তো তার কথা যদি শুনতাম, যদি তাকে একটু সাহস যোগাতাম, হয়তো সে এইভাবে চলে যেতো না। নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না। ক্ষমা করিস ভাই। তোকে অনেক মিস্ করছি এবং করবো। যেখানে থাকিস ভালো থাকিস।’ মাসুদ সিটিজি মৃত্যুর কারণ হিসেবে ফেসবুকে আরেকটি কমেন্ট করেন ‘মনে হয় নারী সংক্রান্ত।’ ইকবাল হোসাইন লেখেন ‘খুবই বেদনাদায়ক’। আরাফাত আলিফ লেখেন ‘চলে গেল রাজপথের আরেক সহযোদ্ধা টুটুল কে পালিত। দাদা অনেক মিস করব, ওপারে ভাল থাকিস।’ কামরুল হাসান লেখেন ‘মুজিব আদর্শের রাজপথের সাহসি সৈনিক টুটুল কে পালিত আর নেই। বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে টুটুল পালিত মারা গেছে, ওর স্মৃতিগুলো সব চোখের সামনে ভাসছে।’ কারামুল্লাহ লিখেন ‘বড় ভাই বলে ডাকতো। জানি তার মনে অনেক দুঃখ ছিলো। মেনে নিতে পারছি না ভাই।’
    প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, রাউজান পশ্চিম গুজরা সরকার পাড়া গ্রামের এক টুটুল পালিত (২৮) নামের ছাত্রলীগের এ কর্মী শহরের দেওয়ানজি পুকুর পাড়ের একটি বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান। কোতোয়ালী থানা পুলিশ টুটুলের মরদেহ গত ২৪ এপ্রিল সোমবার রাতে ওই বাসা থেকে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পুলিশের দাবি, টুটুলকে ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের ঘনিষ্ঠ জনরা জানিয়েছেন, টুটুল যে বাসাটিতে আত্মহত্যা করেছেন সেই বাসাটিতে থাকতো রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের এক প্রবাসীর পরিবার। ওই বাসায় কি কারণে বা কেন গিয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রবাসী পরিবারটির সাথে টুটুলের সম্পর্ক ছিল। নিহত যুবকের গ্রামের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, টুটুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। গতবছর গ্রামে প্রভাব বিস্তারের এক ঘটনায় রুপম সরকার (২৫) নামের অপর এক ছাত্রলীগ নেতাকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় তখন তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তারও হন টুটুল। জামিনে এসে অবশ্য বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, টুটুলকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। উল্লেখ্য, টুটুল পালিত সরকার পাড়া গ্রামের প্রয়াত খোকা পালিতের চার পুত্রের মধ্যে সবার ছোট।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here