বাড়ছে শিশুশ্রম : অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুরা

    0
    6

    বিশেষ প্রতিবেদন । রাউজানটাইমস ২৪.কম

    এম জাহাঙ্গীর নেওয়াজ ও মো. সোহেল রানা :

    শিশুরা হলো ফুলের মতো । যে বয়সে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কথা, বিভিন্ন খেলায় , হাসি আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা। অথচ সে বয়সেই অনেক শিশুকে ধরতে হচ্ছে সংসারের হাল। মোটর লাইন, রিকশা, সাইকেল নির্মাণ, বিদ্যুৎ, ইটভাটা, চা স্টল, হোটেল, রেষ্টুরেন্টে, রাজমিস্ত্রীর সাহায্যকারী, ওয়েলডিং কারখানায়, গার্মেন্টস, জুটমিলসহ বিভিন্ন কাজে শিশুরা জীবন জীবিকার পথ খোঁজে। অনেকেই আবার ট্যাক্সি, টেম্পো, মাইক্রোবাসের হেলপার, কেউবা চালাচ্ছে রিক্সা, কেউ কাঠমিস্ত্রির সহকারী।

    অভাবের তাড়নায়ই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে শিশুরা। এতে ওদের শারীরিক, মস্তিস্ক গঠনেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার শিশুদেও জীবনে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। অকালেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশুরা, অনেক সময় পঙ্গুত্ব বরণ করছে, জীবনী শক্তি য়ে অনেক শিশু মারাও যাচ্ছে। এ ব্যপারে নির্বাক  ভূমিকা পালন করছেন প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকমহল।

    শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আমাদের দেশে রয়েছে বেশ কিছু আইন। কিন্তু আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। সবার চোখের সামনেই ঘটছে শিশুশ্রম। এ জন্য অবশ্য মালিকদেরকেই দুষছেন অনেকে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অথচ কিছু স্বার্থলোভী মালিক তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য এই শিশুদের বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

    চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে শিশুশ্রম। যে কোনো স্থানে গেলেই চোখে পড়ে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। লেখা-পড়ার এই বয়সে কর্মব্যস্ততায় সময় পার করছে অনেক শিশু। অনেক জায়গায় দেখা যায় সিমাহীন দরিদ্র অনেক শিশুরা ুদা নিবারণ করতে মানুষের ফেলে দেওয়া উছিষ্ট খাবার কুরিয়ে খাচ্ছে। অনেকে আবার কাঁদে বস্তা নিয়ে হাট-বাজারের অলিগলি ঘুরে বোতল কিংবা ভাঙ্গা জিনিষ কুরিয়ে বিক্রি করছে।

    গবেষকদের মতে, শিশুশ্রম আর শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের েেত্র আইনি সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান থাকলেও তার নেই কোনো প্রয়োগ। পিতৃমাতৃ, অভিভাবকহীন এতিম, দরিদ্র ও বাস্তুহারা অসহায় সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে পতিত শিশুদের সন্ধান ও সংগ্রহ করে ওইসব শিশুকে রা ও শিশুদের সার্বিক কল্যাণের ল্েয জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ‘ইউনিসেফ’ নামক সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। এই সংগঠনটি শিশুদের প্রাণ রা, সংরণ ও তাদের যাবতীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করতে থাকে। ইউনিসেফ আত্মপ্রকাশের প্রায় ৩৫ বছর পর আশির দশকের মাঝামাঝি সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ শিশুদের নিয়ে ভাবতে শুরু করে। বেঁচে থাকার জন্য শিশুদের চাহিদা পূরণ শীর্ষক আলোচনায় শিশুরাও মানুষ, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ ও শিশুদের সমঅধিকারের স্বীকৃতি হচ্ছে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও বিশ্ব শান্তির ভিত্তি স্লোগানে মুখরিত করে।

    ১৯৮৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু কারা? শিশুদের প্রতি বৈষম্যহীনতা, স্বার্থের প্রাধান্য, অধিকার বাস্তবায়ন, শিশুর জীবনধারণ, জীবন রা এবং বেড়ে ওঠা শিশুদের পরিচয় সংরণ, পিতা-মাতার অবর্তমানে শিশুদের বিকল্প যতেœর ব্যবস্থাকরণ, শিশুর অধিকার, শরণার্থী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিশুদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিা, যৌন অনাচার, বিক্রয় ও পাচার প্রতিরোধে শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তাসহ ৫৪টি ধারা সংবলিত শিশু অধিকার সনদ নামে একটি সনদ গৃহীত হয়। এর নয় মাস পর শিশু অধিকার সনদটি জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৯১টি সদস্য দেশে প্রকাশ্য সমর্থনে আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়।

    সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অমরা কতটু পিছিয়ে তা চোখে না দেখলে অনুভাব করা যেতনা।

    রাউজানের একটি শিশু শ্রমিক পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অভাব-অনটন। এ কারণে বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন শিশু শ্রমিকের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এমনটাই জানালেন শিশু শ্রমিকের অভিভাবক। তিনি আরো বলেন, একজন নিন্মবিত্ত পিতার আয়ে পরিবারের সব খরচ ও পড়ালেখার খরচ যোগানো খুব কষ্টকর তাই বাধ্য হয়ে শিশুকে কাজে দিচ্ছেন অনেক অভিবাবকরা।

    বাংলাদেশ সরকারের ব্যুারো তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিকের শতকরা ১২ ভাগ শিশু শ্রমিক। যেসব শিশুর হাতে বই-খাতা-কলম থাকার কথা সেসব শিশু অর্থ উপার্জনের জন্য করতে হচ্ছে দিনের পর দিন শ্রম। তাতে নিশ্চিত আগামীতে দেশ পরিচালনায় যোগ দিতে পারবে না সেসব শিশু। তাই যতই কষ্ট হোক, সব শিশুর হাতে বই-খাতা-কলম চাই। এখনই যদি এই স্লোগান নিয়ে কার্যকর প্রদপে গ্রহণ করা না হয় তাহলে শিাহীন এ সব শিশু বড় হয়ে বিপর্যস্ত মানবতার মধ্য দিয়ে আগামী ভবিষ্যৎ প্রজšে§র সমাজ জীবন রাষ্ট্রীয় জীবন নিঃসন্দেহে অস্ব^স্তিকর বিব্রতকর হয়ে উঠবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here