ময়লার স্তুপে পাওয়া নবজাতক একুশের আকিকা শুক্রবার

    0
    3

    চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু বিষয়ক আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে বুধবার ‘একুশ’ কে আনা হয়।

    এসময় তাকে জিম্মায় পাওয়া দম্পতি ‘একুশ’ এর স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন, শিক্ষা বিমার কাগজপত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং টিকা সংক্রান্ত কাগজ আদালতে দাখিল করেন।

    এদিকে ‘একুশ’র আকিকা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন ভিন্ন ভাবে মা-বাবা হওয়া জাকিরুল ইসলাম ও শাকিলা আক্তার দম্পতি।

    আগামী শুক্রবার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি এম এ ফয়েজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদালতের দেওয়া শর্ত অনুসারে জিম্মায় পাওয়ার তিন মাস পর প্রথমবারের মত ‘একুশ’কে আদালতে আনা হয়।

    “আদালতকে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সে সুস্থ আছে।”

    জিম্মায় পাওয়া মা-বাবা শিশুটির নতুন নাম রেখেছেন মুজিদ ইসকান্দার (সায়্যুজ)। তবে শিক্ষাবীমাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্রে নাম থাকছে মুজিদ ইসকান্দার একুশ।

    এ বিষয়ে অতিরিক্ত পিপি এম এ ফয়েজ বলেন, আদালত জিম্মায় দেওয়ার সময়ই বলেছিলেন, দালিলিকভাবে যাতে একুশ নামটি থাকে। সেটা তারা রেখেছেন।

    “ছেলে বড় হয়ে যাতে কোনো মানসিক কষ্ট না পায় তাই পারিবারিকভাবে তারা একুশ ডাকনামটি রাখেননি।”

    একুশ’কে জিম্মায় পাওয়া চিকিৎসক জাকিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ প্রথমবারের মত একুশ’কে নিয়ে আদালতে অবহিত করতে যাই। সবার দোয়ায় সে সুস্থ আছে।

    “প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করেছি। সেখানে তার নাম আছে মাজিদ ইসকান্দার একুশ।”

    জাকিরুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার রাতে আকিকার আয়োজন করেছি। যারা সহযোগিতা করেছেন এবং সাংবাদিকদেরও দাওয়াত করেছি।”

    একুশের জিম্মার বিষয়ে আদালত চারটি শর্ত দেয়।

    সেগুলো হলো- ৫ এপ্রিলের মধ্যে শিশুটির জন্য ১০ লাখ টাকার শিক্ষা বীমা করা, ভবিষ্যতে কখনও বাবা-মা এলে ডিএনএসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে ফেরত দেওয়া, জিম্মায় পাওয়ার তিন মাস ও ছয় মাসের সময়ে একবার করে এবং এরপর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালতকে শিশুটির বিষয়ে অবহিত করা এবং শিশুটির স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কিছু না করা।

    সেই শর্ত মেনে আদালতে শিক্ষা বীমার কাগজ জমা দিয়ে ৫ এপ্রিল একুশ’কে কোলে পান শাকিলা-জাকিরুল।

    গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর আকবর শাহ থানার কর্নেল হাট প্রশান্তি আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের পেছনে আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় নবজাতকটিকে।

    কয়েকজন যুবক শিশুটিকে উদ্ধারের পর পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একুশের প্রথম প্রহরের আগে উদ্ধার হওয়ায় আকবর শাহ থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর শিশুটির নাম দেন ‘একুশ’।

    এরপর একুশ’র জিম্মা চেয়ে আদালতে ১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এ বিষয়ে ২২ মার্চ ও ২৮ মার্চ আদালতে শুনানি হয়। চারজন অনুপস্থিত থাকায় মোট ১২ জনের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় আদালতে।

    আবেদনকারীর মধ্যে গৃহিনী, শিক্ষিকা, আইনজীবী, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা ছিলেন। তাদের অধিকাংশই নিঃসন্তান, তিন সন্তান হারানো এক দম্পতিও ছিলেন এর মধ্যে।

    শুনানি শেষে গত ২৯ মার্চ আদালত ‘একুশ’কে জাকিরুল ইসলাম ও শাকিলা আক্তার দম্পতির জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

    এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে সেখানে চিকিৎসক, সেবিকা ও অন্য নবজাতকের মায়েরা শিশুটির পরিচর্যা করেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here