কর্ণফুলী ও হালদার পানি বিপদসীমার ২ মিটার উপরে প্রবাহিত: সাত ইউনিয়নে পানিবন্দি ১ শ গ্রামের মানুষ

    0
    1

    অনিক সিদ্দিকী :-
    প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই বাঁধ ছেড়ে দেওয়ার কারণে রাউজানে সৃষ্টি হয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি।  মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখাগেছে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১শ টি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ। এদিকে উপজেলার পাশ ঘেঁেষ বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপত সীমা অতিক্রম করে দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আট ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে দুই নদীর পানি।

    যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কর্ণফৃুলী ও হালদা পাড়ের নোয়াপাড়া ইউনিয়ন, উরকিরচর ইউনিয়ন, পশ্চিম গুজরা ও বাগোয়ান, সর্তা খালের তীরবর্তী ডাবুয়া, চিকদাইর, হলদিয়া ইউনিয়নের সড়কগুলোর। এই সাত ইউনিয়নের সড়ক গুলোতে গলা সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। বাড়ী ঘরে পানি হয়েছে কোমর সমান। এসব ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামিণ সড়কে গাড়ী চলাচল সর্ম্পুণ রুপে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব গ্রামের বাসিন্দারা। অনেকে বাড়ী ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
    মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সামমাহালদার পাড়া, ছামিদর কোয়াং, মোকামী পাড়া, পশ্চিম মোকামী পাড়া, ঝিকুটি পাড়া, উভলং, কচুখাইন, মধ্যশ পাড়া, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, চৌধুরীঘাটকুল, পলোয়ান পাড়া, মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, মোকামী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, উরকিরচর ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া, পুর্ব উরকিরচর, বাগোয়ান ইউনিয়নের লাম্বুরহাট, কোয়ে পাড়ার অন্তত তিন হাজার ঘর কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এসব গ্রামের রাস্তাঘাটগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিবারে বন্ধ হয়ে গেছে রান্না বান্নার কাজ। ঘরে পানি হয়েছে খাটের কিনারা পরিমান। একইভাবে ও পাঁচ শতাধিক ঘরে পানিতে ডুবে আছে।
    বন্যা কবলিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন নদীর তীরবর্তী বাঁধ ভেঙ্গে পানির চাপে অসংখ্য রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ঘর বাড়ীতে পানি ঢুকে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    বন্যা কবলিত কচুখাইন গ্রামের আকতার হোসেন বলেন, বিগত ৩০ বছরে এরকম বন্যা এলাকায় দেখা যায়নি। বাড়ী ঘর ডুবে গিয়ে বন্দি জীবন পার করছি। ঘরের ছোট শিশু ও মহিলাদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।
    নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য এস.এম হাফিজুর রহমান বলেন, আমার ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট গুলো পানির স্রোতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের তিনটি গ্রামের ৫ শত ঘরে পানিতে ডুবে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
    নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের অর্ধেকাংশের রাস্তাঘাট, ঘর বাড়ী ঢলের পানিতে ডুবে গেছে। ঘর বাড়ী রাস্তা ঘাটের পাশাপাশি স্কুল কলেজেও পানি ঢুকে অনেক শিক্ষার্থীরা আটকা পড়েছে। এ ইউনিয়নের দুই হাজার ঘর পানিতে ডুবে আছে।

    উরকিরচর ইউনিয়ন (ইউপি)র চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ভারী বর্ষণে বন্যা সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি আকার ধারণ করেছে। তার সাথে যোগ হচ্ছে পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানি। বিভিন্ন সড়কের ওপর দিয়ে এই পানি গড়িয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা তছনছ করে দিচ্ছে। আমার ইউনিয়নের মীরা পাড়া, মইশকরম, উরকিরচর, সওদাগর পাড়ার পাঁচ শতাধিক ঘর পানিতে ডুবে আছে গত তিনদিন।


    পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম মদুনাঘাট অঞ্চলের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহিন বাদশা বলেন, হালদা ও কর্ণফুলীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়েছে আট ফুট। এতে দুই নদীর তীরবর্তী হাজারো বাড়ী ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
    রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন বলেন, উপজেলার হালদা ও কর্ণফুলী তীরবর্তী নোয়াপাড়া, উরকিরচর, বাগোয়ান ও পশ্চিম গুজরা, ডাবুয়া, চিকদাইর, হলদিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও হাজারো ঘর বাড়ী পানিতে ডুবে আছে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সর্তক অবস্থানে আছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here