তিনমাসের বিশ্রামে সাকিব

    0
    4
    MIRPUR, BANGLADESH – AUGUST 30: Shakib Al Hasan of Bangladesh celebrates taking the wicket of Glenn Maxwell of Australia during day four of the First Test match between Bangladesh and Australia at Shere Bangla National Stadium on August 30, 2017 in Mirpur, Bangladesh. (Photo by Robert Cianflone/Getty Images)

    নেজাম উদ্দিন রানা :
    ক্রিকেটের টানা ধকল। তার উপর বিশ্বের জনপ্রিয় টি টোয়েন্টি লিগগুলোতে খেলার ব্যস্ততা। সবমিলিয়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান যেন ক্লান্ত এক নাবিক। ক্রিকেট আঙ্গিনায় নিজের আগামীর দিনগুলোতে আরো তেজোদীপ্ত সাকিবকে তুলে ধরতে ছয় মাসের বিশ্রামের জন্য বিসিবির দারস্থ হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হবার পর জাতীয় দলের খেলোয়ারদের চোখ এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দিকে। দুই টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে আর দুইটি টি টোয়েন্টি খেলার জন্য নির্বাচকদের চোখ যখন একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের দিকে ঠিক তখনই সাকিবের বিশ্রামের ইস্যুটিই কিছুটা হলেও দ্বন্ধের মুখে ফেলেছে। তবুও দলের সেরা তারকা যখন নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ছয় মাসের বিশ্রামের অনুরোধ করেছেন সেটিও উপেক্ষা করার বিষয় নয়। সাকিবের আবেদনের পেক্ষিতে ছয়মাস থেকে তিন মাস কমিয়ে সাকিবকে তিনমাসের বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি। তারপর থেকে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাকিবের বিশ্রামের বিষয়টিকে নিয়ে স্ট্যাটাসে সমালোচনায় বিদ্ধ করছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। আবার অনেকেই সাকিবের বিশ্রামে থাকার বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তাদের মতে টানা ক্রিকেটের ধকল থেকে মুক্তি পেতে সাময়িক বিশ্রাম অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা সাকিবকে নিয়ে নানা ধরনের নেগেটিভ মন্তব্য তুলে ধরছেন তারা যুক্তিতে টেনে আনছেন, বিরাট কোহলি, স্মিথ, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, বেন স্টোকদের টানা ক্রিকেট খেলার উদাহারণ। তবে যাকে নিয়েই এত আলোচনা সেই সাকিব এতদিন ছিলেন নিষ্প্রভ। অবশেষে গতকাল বনানীর নিজের বাসায় সংবাদ সন্মেলন করে গণমাধ্যমে বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার তুলে ধরেছেন তার বিশ্রামের নেপথ্যে কথা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, মানসিকতা ফুরফুরে না হলে এই খেলা খেলার কোনো মানে হয়না। দলের হয়ে আমাকে টেস্টের চার ইনিংসে ব্যাটে-বলে কিছু দ্বায়িত্ব পালন করতে হয়। সেটা করতে হলে আমার কাছে বিশ্রামটাই জরুরি মনে হয়েছে।
    দক্ষিণ আফ্রিকার মতো একটি কঠিন সিরিজ শুরু হবার পূর্ব মুহুর্তে সাকিবের বিশ্রামের কারণে দলে একটা শূণ্যতা সৃষ্টি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাবিক উত্তরটা দিলেন বেশ স্বাভাবিকভাবে। ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা সুযোগ পাচ্ছে সবাই সেখানে খুব ভালো ক্রিকেট খেলবে বলে আমি আশাবাদী। তাছাড়া কারো জন্য কোনো কিছু আটকে থাকেনা। ’
    গংবাদ সন্মেলনে সাকিব সাংবাদিকদের কাছে বিশ্রামের বিষয়টা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আমি আরো বেশ কিছু বছর সাদা পোশাকে খেলাটাকে উপভোগ করতে চাই। টি টোয়েন্টি আর ওয়ানডে থেকে অবসরের পরই আমি সাদা পোশাক থেকে অবসরের কথা ভাববো। আমার ইচ্ছা আরো ৫/৬ বছর ক্রিকেট খেলা। আর নিজের এই চাওয়াটা পূরণ করতে হলে আমার অবশ্যই বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ, তারা আমার এই বিশ্রামের আবেদনে সাড়া দেওয়ার জন্য। ’
    বিসিবির কাছে পাঠানো আবেদনে সাকিব ছয়মাসের বিশ্রাম চেয়েছিলেন কিন্তু দলে তার প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে বিসিবি তাকে তিনমাসের বিশ্রামে রাখার সিন্ধান্ত নিয়েছেন। এই তিনমাস সাকিব ক্রিকেটের টানা ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে পরিবারের সাথে সময়টা উপভোগ করতে চান। তিন মাসের বিশ্রাম শেষে আরো ফুরফুরে মানসিকতা নিয়েই খেলার মাঠে হাজির হবেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
    সাকিবও জানালেন তিন মাসের বিশ্রাম শেষে আরো চনমনে হয়ে ক্রিকেট মাঠে ফিরে আসবেন তিনি। আর তিনমাসের বিশ্রামের সময়টুকুতে পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে নিজেকে ফুরফুরে করার কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমে।
    তা যদি সত্যি হয় তাহলে দেশের ক্রিকেটের জন্যই লাভ। কেননা বাংলাদেশের ক্রিকেট অগ্রযাত্রায় এই তারকা ক্রিকেটারের অবদান সত্যিই অতুলনীয়। তিন ফরম্যাটে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সামনে থেকেই ব্যাটে-বলে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রিয় তারকা সাকিব।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here