চৌধুরীহাট-কচুখাইন সড়কের ৬ স্থানে ভাঙন-চলাচলকারীদের দুর্ভোগ দেড় মাস

    0
    5

    অনিক সিদ্দিকী, রাউজানটাইমস :-

    রাউজানের চৌধুরীহাট-কচুখাইন সড়কের ৬টি স্থানে ভেঙে ফসলি জমির সাথে মিশে গেছে। এরই সাথে ৩ কিলোমিটার সড়কজুড়ে রয়েছে খানাখন্দ। এ সড়ক দিয়ে ১২টি গ্রামের ১১টি স্কুল ও মাদ্রাসা পড়–য়া হাজারো শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত করে। গত একমাস ধরে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার যান চলাচল। ভাঙনে পরিণত হয়েছে খালে তাই হেঁটে চলারও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোন কোন ভাঙা স্থানে বাঁেশর সাকোঁ দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় লোকজন। বেহাল সড়কপথে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারছেন না। ভাঙা ৬টি স্থানের একেকটিতে ১০ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত সড়ক বিলীন হয়ে দু-পাশের ফসলি জমির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। হালদা নদীর জোয়ার ভাটায় তীব্র গতিতে পানি বেয়ে যায় একপাশের জমি থেকে অন্য পাশের জমিতে। শুধু তাই নয় পুরো সড়কজুড়ে বিটুমিন উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট-কচুখাইন সড়কের এমন চিত্র কারো চোখে পড়ে না। সড়ক নামের নরকটি দেখার কেউ নেই? সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে কথা হয় ভুক্তভোগী অনেক এলাকাবাসির সঙ্গে। তারা জানান, চৌধুরীহাট হতে কচুখাইন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চৌধুরীহাট, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, পূর্ব কচুখাইন, পশ্চিম কচুখাইন, মধ্যম পাড়া, খন্দকার পাড়াসহ ১২ টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যানবাহন ও হেঁটে চলাচল করে। এছাড়াও এখানকার মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, কচুখাইন মিয়া আলী উচ্চ, মুহাম্মদীয়া সুন্নিয়া মাদরাসা ও নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী চলার পথে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত একমাস আগে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের স্রোতে সড়কটির এমন করুণ অবস্থার সৃষ্টি হলেও গাড়ী চলাচলতো দূরের কথা হেটে চলারও উপযোগী করতে কেউ এখনো এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দা এসকান্দর নামের এক ব্যক্তি বলেন এই সড়কে ৬টি স্থান ভেঙে পড়ার কারণে গাড়ি ও মানুষ চলাচল করতে পারছেনা। তার পাশাপাশি সড়কের অপর প্রান্তের যে জমিতে আমন চাষ করেছিলাম তাতে ভাঙা স্থান দিয়ে গড়িয়ে আসা পানির স্রোতে ভেসে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। বাচ্চা কোলে নিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে শ্বাশুড়ীসহ বাড়ী ফিরছিলেন কচুখাইন গ্রামের খয়রাতী সওদাগরের বাড়ীর গৃহবধু রোকসানা আকতার। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে ভাঙ্গা স্থান পার হয়ে বাড়ী ফিরছি। খুব ঝুঁিক ছিল বাচ্চা কোলে নিয়ে যখন সাঁকোর বাঁেশর উপরের পথ অতিক্রম করছিলাম।
    স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, আমার ওয়ার্ডের এই গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি গত ঈদের পর থেকে এ অবস্থার মধ্যে আছে। সরকারী কোন বরাদ্দ এ পর্যন্ত পায়নি। নিজের টাকায় কয়েকস্থানে হেটে চলাচলের উপযোগী করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু পানির স্রোতে তাও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। সড়কটি চলাচল উপযোগী করা যায় তার জন্য তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটির ভাঙাস্থান ও বিটুমিন উঠে যাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এরমধ্যে পরিমাপ করে সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে কাজ শুরু করা হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here