কান্না থামেনি ইমনের পরিবারে : এক মাস পর ঘরের ছেলে ফিরলো মাঠির ঘরে

    0
    13

    null

    জাহেদুল আলম/ নেজাম উদ্দিন রানা :
    বাল্য বন্ধুর হাতে ছেলে খুন হওয়ার এক মাস অতিবাহিত হলো। এই দীর্ঘ সময়ে বাবা রেজাউল করিম, মা এরশাদ আরা বেগম ও বোন আইরিন সুলতানাসহ স্বজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে সন্তান, ভাই কিংবা স্বজন হারানোর আর্তনাদে। বেওয়ারিশ হিসেবে লাশও দাফন হলো নগরীর চৈতন্যগলির কবরস্থানে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে দীর্ঘ একমাস পর ফিরে আসলো ঘরে। আর তার ফিরে আসার দিনে আবারো আর্তনাদের রোল উঠলো রাউজান পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডস্থ ইমনের গ্রামের বাড়ি পশ্চিম রাউজানের লুধী চৌধুরী বাড়িতে। দীর্ঘ একমাসে তার শরীর বিবৃত হওয়ারই কথা। তবুও শেষবারের মতো পরিবারের আদুরে সন্তানটির চেহারা এক নজর দেখতে চাতক পাখির মতো লাশবাহী গাড়ীর সাইলেন্টের শব্দ শোনার প্রতীক্ষার অপেক্ষার প্রহর গুণছিল তার পরিবারসহ স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটায় ঘরের ছেলে ফিরে আসে গ্রামে। আর খুব কাছ থেকে সন্তানের এমন নিথর দেহ দেখে মা-বাবার আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠলো লুধী চৌধুরী বাড়ীর আশপাশের এলাকা। চট্টগ্রাম নগরীতে বন্ধু ভয়ঙ্খর খুনী অমিতের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ইমরানুল করিম ইমনের (২৫) লাশ কবর থেকে পুণঃউত্তোলন করে রাউজান পৌরসভার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। হত্যার একমাস পর মঙ্গলবার বাদে আছর পৌরসভার পশ্চিম রাউজানস্থ কায়কোবাদ চৌধুরী জামে মসজিদের পাশে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এরআগে সকালে চট্টগ্রাম নগরী চৈতন্যগলি কবরস্থান থেকে ইমনের লাশ পুণঃউত্তোলন করা হয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে। বিকেল চারটায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে ইমনের কপিনন্দী মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি পশ্চিম রাউজানের লুধী চৌধুরী বাড়িতে আনা হলে এক হৃদয়বৃদারক দৃশ্যেও অবতারণা হয়। লাশের গাড়ি বাড়িতে ঢুকার আগেই স্বজনরা ভীড় করে ইমনের বাড়িতে। বিকেল চারটায় লাশবাহি গাড়িটি পৌঁছতেই ইমনের বাবা, মা, ভাই বোন প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয় পরিবেশ। এসময় মা এরশাদ আরা বেগম ও বোন আইরিন সুলতানা ইমনের কফিন ধওে আহাজারি করতে থাকেন। ইমনের বাবা রেজাউল করিম বলেন ‘খুনী অমিত মুহুরী আমার ছেলের বাল্য বন্ধু, সে ডেকে নিয়ে আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করেছে, আমিও চাই ওইভাবে যেন অমিতের বিচার হয়।’ নিহত ইমনের খালু আমানত খান ও চাচা হারুনুর রশীদ চৌধুরী টিপু জানান ‘ইমন ও পাশ্ববর্তি গ্রামের ডা. মনোরঞ্জন মুহুরী বাড়ির অরুণ মুহুরীর ছেলে অমিত মুহুরী (২৭) বাল্যবন্ধু ছিল। তারা দু’জনে একসাথে কিন্ডার গার্টেনেও পড়েছিল।
    একসময় অমিত চট্টগ্রাম শহরে বাসা নিয়ে বসবাস করে মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়। অপরদিকে বন্ধু ইমন কক্্রবাজারে একটি চাকুরি নেয়। গত ৮ আগস্ট আরেকটি চাকুরির সন্ধানে চট্টগ্রাম শহরে আসে। পরদিন ৯ আগস্ট ইমনকে ফোন করে বাসায় ডেকে নেন অমিত। এরপর ১৩ আগস্ট বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে নগরীর এনায়েত বাজার রানীর দীঘির পাড় থেকে ইমনের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ময়না তদন্তশেষে ১৭ আগস্ট আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ হিসেবে ইমনের লাশটি চৈতন্যগলি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরমধ্যে ইমনের ছোট ভাই রিমন। ময়নতদন্ত রিপোর্টে চুরিকাঘাত ও শ্বাসরুদ্ধ করে ইমনকে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর কোরবানী ঈদেও একদিন আগে লাশটি ইমনের লাশ বলে পুলিশের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন। এরপর ইমনের বন্ধু অমিতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় আরো দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, অমিত তার স্ত্রীর সাথে ইমনের অবৈধ সম্পর্ক জড়ানোর কারণে বন্ধুকে হত্যা করেছে। জানা যায়, ইমন ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে সবার বড়। সে একসময় ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। তবে এলাকার একটি সূত্র জানায়, ইমন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে এলাকা ছাড়তে হয়। এদিকে আরেকটি সূত্র জানায়, ইমন হত্যায় অমিতের সাথে আর রাউজানের অন্যকোন সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here