জনবল সংকটে নানা সমস্যায় জর্জরিত রাউজান উপজেলা মৎস অধিদপ্তর

    0
    3

     

    গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান টাইমস :
    জনবল সংকট সহ নানা সমস্যায় জর্জড়িত রাউজান উপজেলা মৎস অধিদপ্তর। রাজস্বের আওতায় আছে মাত্র দুইজন কর্মকর্তা। তাও একজন আছেন প্রশিক্ষণে। কাজের জন্য নেই পর্যাপ্ত বরাদ্ধ , নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এমনকি কোন উন্নয়ন প্রকল্পও নেই। এতে কচ্ছপের চেয়েও ধীর গতিতে চলছে উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের কার্যক্রম।
    উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, ২৮৩ ব.কিলোমিটারের রাউজানের ৯৮টি গ্রামে রয়েছে ৯৪১ হেক্টর আয়তনের ৪৯৭৩টি পুকুর। এদের মধ্যে সরকারী পুকুর ৪৭টি। নাদী ২টি, খাল ৫৪টি, নার্সারী ৩টি, হ্যাচারি ২টি। ৩০টি মৎস চাষী/মৎসজীবি সমবায় সমিতির আওতায় মৎস চাষী রয়েছে ২৯৩২ জন। তবে এই তালিকার বাইরেও চাষ উপযোগী অনেক পুকুর, খামার,নার্সরী ও মৎসজীবি রয়েছে বলে জানা যায়।
    এছাড়াও যে কারণে রাউজান উপজেলা মৎস অধিদপ্তর অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হল, উপজেলার উত্তর সীমান্ত ঘেষে বয়ে যাওয়া ইউনেস্কোর শর্ত অনুযায়ী বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের যোগ্যতা সম্পন্ন হালদা নদী।যা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখানে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। উপরোক্ত মৎসক্ষেত্র ও মৎসজীবিদের বিপরীতে উপজেলা মৎস অধিদপ্তরে রাজস্বের আওতায় রয়েছেন মাত্র দুইজন কর্মকর্তা। একজন সি. উপজেলা মৎস কর্মকর্তা অপরজন ক্ষেত্র সহকারী কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ক্ষেত্রসহকারী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের বছরের বেশীরভাগ সময় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস চাষ, প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দুইজন ক্ষেত্র সহকারী থাকলেও খালি রয়েছে সহকারী মৎস কর্মকর্তা, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদগুলো। বলা চলে একজন মাত্র মৎস কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হয় উপজেলা মৎস কার্যালয়। এর ফলে মৎস চাষে ও উৎপাদনে অপার সম্ভাবনাময় রাউজানে মাঠ পর্যায়ে মৎসক্ষেত্রের যথাযত পর্যবেক্ষণ, মৎসচাষীদের পরামর্শ , প্রযুক্তিগত সেবা ও প্রশিক্ষণ প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। যার দরুণ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে মৎসখাতে বিনিয়োগ করা অধিকাংশ নতুন মৎসচাষী গুণছে লোকসানের পাহাড়। সামগ্রিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে মৎস উৎপাদনের পরিমান।
    এছাড়াও প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় যথাযত পর্যবেক্ষণ,রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মরাত্মক হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে মা মাছ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে ধ্বংস করা হচ্ছে নদীর বাঁক, ড্রেজারের আঘাতে মৃত্যু হচ্ছে মা মাছের। এসব রোধ করার জন্য চারজন আনসার নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা হলেন ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দার। পাহারা দেওয়ার জন্য এদের নেই কোন নৌকা, নেই অস্ত্র। তাই এদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দস্যুরা মেতে উঠে তাদের অপকর্মে।
    এই সম্পর্কে উপজেলা সি. মৎস কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, লোকবল সংকট ও আর্থিক বরাদ্ধ কম থাকার কারণে যথাযতভাবে কাজ সম্পাদন করতে বেগ পেতে হয়। নেই কোন নতুন প্রকল্প। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা মৎস অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। হালদা রক্ষাণাবেক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, হালদায় সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার অভিযান চালানোর প্রয়োজন। একই কারণে এটি সম্ভব হয় না। প্রতিটি অভিযানে গাড়ি ভাড়া, বোট ভাড়া, মজুরিসহ নানা খাতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বছরে সবমিলে বরাদ্ধ আসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
    এ সম্পর্কে জেলা মৎস কর্মকর্তা মুমিনুল হক বলেন, বছরের শেষের দিকে নতুন নিয়োগ হচ্ছে এত জনবল সংকট কমবে। আর রাউজান ও হাটহাজারীতে বিশেষ বরাদ্ধের জন্য সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। হালদার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে বলেন, দুই বছর আগেও আনসার ছিল না, প্রয়োজনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হালদার কোন নতুন প্রকল্প হলে বোটসহ নানা সমস্যা বিবেচনায় আনা হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here