যানজট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা আরো জোরালো হোক

0
130

সকাল ৭ টা বেজে ৩০ মিনিট। গ্রাম-গঞ্জে শীতের আমেজ শুরু হচ্ছে। ঘন কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো জমিনে পড়তে শুরু করেছে। আমি রোজকার মতো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তড়িঘড়ি করে বের হলাম। দ্রুত হাঁটছি। আজকে ক্লাস ৯.০০ টা থেকে। রাউজান থেকে মুরাদপুর যেতে সময় লাগে প্রায় ৪৫-৫০ মিনিট। (যদি যানজট না থাকে)

মুরাদপুর নেমে দৌঁড়ে পাব্লিক বাস ধরলাম। ঐ বাসে আমিই ছিলাম শেষ যাত্রী, বাসে বসার বা দাঁড়াবার আর জায়গা নেই। পাব্লিক বাস বোধহয় এরকম-ই হয়। জিইসি মোড় পৌঁছাতেই বাসের হেল্পার ডাক দিতে শুরু করল এ জিইসি! জিইসি! নামেন-নামেন। আমি নামার জন্য সামনে আগাতেই বাসের হেল্পার বলল মামা ১০ টেকা দেন। প্রতিদিনের নির্ধারিত যে ভাড়া তার চায়তে পাঁচ টাকা বেশি দাবি করায় রক্ত যেনো মাথায় চড়ে বসলো। দেশটা কি তাহলে মগের মুল্লুক নাকি? যার যা মন চায়বে করবে? আমার মধবিত্ত মনের ক্রোধ মনের ভেতরেই গোঙাতে লাগল। আমি ভাবছি হেল্পার মামাকে কিছু বলব কিনা। অন্তত কিছু একটা বলতে হবে। তা না হলে মধবিত্ত জীবনের ষোলকলাটাও আবার অপূর্ণ থেকে যায়।
চেহেরায় পরিমিত ক্ষোভ আর বিরক্তির রেশ টেনে এনে বললাম ১০ টাকা মানে? ৫ টাকা দিয়ে প্রতিদিন যাওয়া- আসা করি। ১০ টাকা দেবো কেনো?
-আচ্ছা ৫ টেকা দেন। টাকা দিয়ে নেমে গেলাম।

৮.৫০ মিনিটে জিইসি মোড় নামালাম। গন্তব্য ফয়েজলেক। জাকির হোসেন রুটে গিয়ে টেম্পোতে উঠলাম। টেম্পো ছাড়ছেইনা। ড্রাইভার মামাকে জিজ্ঞেস করলাম মামা কি হলো? -সামনে দেখতেছেন না? হেই লম্বা জ্যাম! চোখ যতদূর যাচ্ছে গাড়ি আর গাড়ি দেখতে পাচ্ছি। বাস, সিএনজি, টেম্পো, প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেলে ছেয়ে গেছে জাকির হোসেন রুট। খুব বিরক্ত লাগছে। আমি ভাবছি প্রতিদিন ই জ্যাম থাকা লাগে? আপসেট ফিল করে এদিক সেদিক তাকাচ্ছি। পাশে থাকা এক যাত্রী বলে উঠলো -ভাই আপসেট করে কোনো লাভ নাই। প্রায় সময় এরকম লম্বা জ্যাম থাকে। এদিকে আমার ক্লাস শুরু হয়ে প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। আমি এখনো গাড়িতে। ১০ টা ১০ মিনিটের দিকে গাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। ১০. ৩০ এ ইউএসটিসি গেইটে নেমে সোজা ক্লাসে গেলাম।

এতো গেলো আমার গল্প।
প্রতিদিন আরো শত-শত ছাত্র-ছাত্রী কিম্বা চাকুরীজীবীদের গল্প তৈরী হচ্ছে তা কে খেয়াল রাখে।
যানজটের কারণে কত মানুষের প্রাণ গেলো রাস্তায় আল্লাহই ভালো জানেন!

এই রুটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে- ওমর গণি এম ই এস কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজ, পাহাড়তলি কলেজ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড ট্যাকনোলোজি চিটাগাং, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউএসটিসি মেডিকেল, চট্টগ্রাম সরকারী চক্ষু হাসপাতাল, বিটিবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র আরো কত-শত শিক্ষা, ব্যবসা,শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ কলকারখানা আছে।
এই সব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকুরীজীবী, শ্রমিক, কর্মচারী আসা- যাওয়া করে। তাদের অবস্থাও একই…

এই যে শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারছেনা, চাকুরীজীবীরা অফিসে পৌঁছাতে পারছেনা, কর্মচারীরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেনা দেশ এগিয়ে না যাওয়ার এটিও একটি কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে যানজট একটি প্রধান সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

আগে থেকে বিশ্বের কাছে পরিচিত ঢাকা যানজটের শহর হলেও এখন বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও দিন দিন যানজটের শহরে পরিণত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার তৈরী হলেও যানজট সমস্যা এখনো নিরসন হয়নি।

সেদিন bdnews24 এ দেখলাম- যানজটের কারণ খুঁজতে গিয়ে সম্প্রতি ট্রাফিক উত্তর বিভাগ ষোলশহর ২ নম্বর গেইট থেকে প্রবর্ত্তক মোড় ও সিডিএ অ্যাভিনিউর দুই পাশের একটি জরিপ চালিয়ে ৬৬টি ক্রুটিযুক্ত স্থাপনা চিহ্নিত করেছে।

দেখা গেছে এই ৬৬টির মধ্যে এর মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টারসহ ৩৩টি স্থাপনারই কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই।
এরকম আরো শত-শত কারণ আছে যানজট লেগে থাকার।

যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন কার্যকর করা প্রয়োজন। রাস্তা নির্মাণের সময় যথাযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা
ছাড়া যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

যদি যানজট কমানো যায়, তাহলে মানুষের শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশের বিপর্যয়ের মাত্রা কমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

যানজট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা অনেক। তবে ভূমিকাটা আরো জোরালো হোক। যাতে শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবী, কর্মচারীরা ঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারে।

মোহাম্মদ নুরুন্নবী
শিক্ষার্থী- ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড ট্যাকনোলোজি, চট্টগ্রাম। (ইউএসটিসি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here