রাউজান সাহিত্য পরিষদের আনন্দ ভ্রমণ প্রাকৃতিক নৈসর্গিক পরিবেশের লীলাভূমি “বান্দরবান”!

0
108

প্রাত্যহিক জীবন থেকে ক্ষনিকের মুক্তি নিয়ে মানুষ চায় একটু বৈচিত্র্য, একটু ভিন্ন স্বাধের জীবন যাপন করতে । অনেক অচেনা অজানা পৃথিবী তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।মাটিতে পাহাড়ে,নদীতে,নির্জনে সর্বত্র মানুষ ছুটে যেতে চায় এক অচ্ছেদ্য আকর্ষনে। নীল থেকে সীমানার নীলে, সবুজ থেকে প্রগাড়তর সবুজে, মানুষের অন্তরাত্মার হারিয়ে যাবার দুর্নিবার ইচ্ছায় মানুষ তারকাময় জীবন থেকে পেতে চায় খন্ডকালীন মুক্তি।

ব্যস্ততম জীবন থেকে একটু মুক্তি নিয়ে গত ৪ মার্চ শনিবার শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংগঠন রাউজান সাহিত্য পরিষদের পক্ষ হতে
ছুটে গিয়েছিল পাহাড়-অরণ্যের জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবানে।
সকালে ভােরের সূর্য উদিত হওয়ার পর এক এক করে সবাই চলে আসে নোয়াপাড়ায়। নির্দিষ্ট সময়ের একটু পর আমরা রওনা দিতেই ঝড়ের গতিতে ছুটে চলা গাড়িতে গান, কবিতা, কৌতুক, আড্ডায় মেতে থাকে সবাই।

রাঙ্গুনিয়ার সবুজ গালিচার ধানক্ষেত,ছোট বড় পাহাড়, কর্ণফুলী নদীতে ফেরী পার হয়ে অনাবিল মনোলোভা সৌন্দর্য্য উপভোগ করে
কখন যে বান্দরবানে পৌঁছে গেলাম টেরই পানি। আসলে আনন্দের সময় গুলো খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

চিরসবুজের ছোঁয়া পেতে আমরা পাড়ি জমিয়েছি পাহাড়ি জনপদে। প্রকৃতি নিজেকে এ জেলায় মেলে ধরেছে আপন সাঁজে। প্রাকৃতিক স্বাদ গ্রহণের বাসনা পূরণে বান্দরবান অনন্য। আমাদের ভ্রমনের প্রথম দর্শনীয় স্থান ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি শৈল প্রপাত। উঁচু উচুঁ বিশাল পর্বত পেছনে আমাদের গাড়ি সম্মুখ পানে যতই এগুচ্ছে ততই যেন অপার সৌন্দর্য্য দেখে সবাই বলছে স্রষ্টার কি অপরূপ সৃষ্টি! পাহাড়ের পাদদেশে অবিরাম ধারায় বয়ে চলা শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানি যেন মন জুড়িয়েছে। এখানে রয়েছে স্থানীয় পাহাড়ি বম জনগোষ্ঠী কোমর তাঁতে বুনা কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী,বান্দরবানে উৎপাদিত মৌসুমি ফলমূল।

দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর আমাদের পরবর্তী গন্তব্য স্থান ছিল অপরূপ সৌন্দর্য সমৃদ্ধ মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। পর্যটকদের সুবিধার্থে মেঘলা পর্যটন স্পটে নীচে নামতে রাস্তার পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় সিড়িঁও।
মেঘলায় লেকের ওপরে আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুতে সবার ছবি তোলার হিড়িক।চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে ক্যাবল কার, ট্যুরিস্ট ট্রেইন, শিশুপার্ক, সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা, স্পিডবোটে ভ্রমণের সুবিধা।

নীলাচল পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখা,আকর্ষণীয় কাঁচের টাওয়ার, দৃষ্টি নন্দন সিঁড়ি, গোলঘর এবং রেস্টুরেন্ট। যেদিকে চোখ যাচ্ছে পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের এই সমুদ্র প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনকে হার মানাতে বাধ্য। নীলাচল হতে খোলা চোখে অনায়াসে দেখা গেল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী। চারিদিকে সবুজ পাহাড় দিয়ে ঘেরা প্রাকৃতির অপূর্ব দৃশ্য।
ছোট্ট এই জায়গাটাকে নজর দেখতে পর্যটকরা ভীড় জমিয়েছে নীলাচল পাহাড়ের চূঁড়ায়। নীলাচল থেকে দেখা গেছে বিকেলে সূর্যাস্তের দৃশ্য!

সন্ধা যখন ছুঁই ছুঁই তখনই শুরু হয় আমাদের আনন্দ আয়োজন, র‍্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ইমনের সভাপতিত্বে ও ভ্রমন কমিটির সদস্য সচিব কবি, প্রভাষক কাজী মোহাম্মদ শিহাবুদ্দীন এর প্রানবন্ত সঞ্চালনায় এ আয়োজনে গান, কবিতা,কৌতুক, অনুভূতি প্রকাশ করেন নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জানে আলম, প্রধান শিক্ষক, উরকিরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলাস কান্তি দাস, পাহাড়তলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
অন্জন বড়ুয়া, শ্যামাচরন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক দাশ গুপ্ত, কুয়েপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দত্ত,গশ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুর নবী, সংগঠনের সহ সভাপতি ও ভ্রমন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক
নেজাম উদ্দিন রানা,
দৈনিক প্রথম আলো রাউজান প্রতিনিধি এস এম ইউসুফ উদ্দীন, আইনজীবি এডভোকেট রোকনুল ইসলাম, ব্যাংকার কবি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, লেখক সৈয়দ মাওলানা আব্দুল্লাহ রশিদী
সাংবাদিক এম কামাল উদ্দিন, সাংবাদিক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক যীশু সেন, এইচ এইচ বি ডি লাইভের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আব্দুল হামিদ, সংগঠক মোঃ জয়নাল আবেদীন।

প্রকৃতির সঠিক রূপ দেখে নিমিষেই ভ্রমণ পিপাসুদের মন-প্রাণ জুড়িয়ে এবার বিদায়ের পালা গুন গুন করে সবাই গাইছে “আবার হবে তো দেখা এ দেখায় শেষ দেখা নয়তো” ।

বিধাতা নিজ হাতেই যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে সবুজ কাঁচ ঘরের ন্যায় তৈরি করেছে বান্দরবানকে।
ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে বান্দরবান হয়ে উঠেছে এক টুকরো প্রাকৃতিক স্বর্গ। বিশুদ্ধ পরিবেশ ও প্রাকৃতির প্রকৃত রূপ, প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর পর্যটন স্পটগুলো, বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে ঘেরা পাহাড়ের গা ঘেঁষে, মাথা চিড়ে উচুঁ-নিঁচু, ঢালু দিয়ে বয়ে যাওয়া মাইলের পর মাইল সড়কগুলো এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, শতবর্ষীয় কৃষ্টি-কালচারগুলো ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য যেন অন্যরকম এক বাড়তি পাওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here