রিকশাচালক ও চৌকিদারের জবানবন্দি : আটক ৩

    0
    410
    জাহেদুল আলম :
    রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের কাকাতো ভাই কবিরাজ সুলাল চৌধুরীকে জবাই করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্য অবশেষে উদঘাটন হয়েছে। পারিপার্শ্বিক শত্রুতার কারণে তিন প্রতিবেশীসহ বেশ কয়েকজন মিলে এ নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধৃত সেই রিকশাচালক (স্থানীয় চৌকিদার) মো. ইলিয়াছ গত বুধবার বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান। ওই জবানবন্দিতে যাদের নাম খুনী হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনীরা সবাই নিহতের প্রতিবেশী। ইলিয়াছের জবানবন্দীর পর আটকরা হলেন পরিমলের ছেলে মিটু, সুলকের ছেলে সুদীপ ও

    শম্ভুর ছেলে সুমন। এ সম্পর্কে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন- ঘটনায় সন্দেহমূলকভাবে ধৃত রিকশাচালক (স্থানীয় চৌকিদার) মো. ইলিয়াছ কবিরাজ সুলাল চৌধুরী হত্যার ব্যাপারে আদালতকে খুনের বর্ণনা দিয়েছেন। খুনীদের ব্যাপারে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াছ বলেন- মিটু, সুদীপ, সুমনের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল নিহত সুলাল চৌধুরীর। ওই বিরোধের জের ধরেই সুলালকে মিটু, সুদীপ ও সুমন মিলে হত্যা করে।
    ওসি কেফায়েত বলেন- ইলিয়াছ জবানবন্দিতে বলেছেন গত শনিবার রাতে ইলিয়াছের রিকশাযোগে বাড়ি আসার সময় বাড়ির প্রায় দুইশ’ গজ দূরে মিটু, সুদীপ ও সুমন রিকশাতেই সুলালকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এসময় ইলিয়াছকে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে তিনি তার রিকশা ধুয়ে মুছে বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
    কেফায়েত বলেন- ইলিয়াছ জবানবন্দিতে ভয়ভীতির কারণে খুনের বিষয়টি গোপন রেখেছেন বলে দাবি করলেও তিনি যেহেতু একজন চৌকিদার, সেহেতু তিনি ওই ঘটনা গোপন করতে পারেন না। এ কারণে তিনিও ঘটনার সম্পৃক্ত বলে মনে হয়। তিনি আরো জানান, ইলিয়াছের জবানবন্দির ভিত্তিতে মিটু, সুদীপ ও সুমনকে বুধবার রাতে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সাথে নিহত সুলালের পারিপার্শ্বিক বিরোধ রয়েছে। এ কারণেই তারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
    ওসি জানান, এ হত্যাকা-ের সাথে এ তিন-চারজন ছাড়াও অন্যকোন পক্ষ জড়িত আছে কিনা সে সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত আছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।
    নিহতের বড় ছেলে সাগর চৌধুরী ও সরোজ চৌধুরীও প্রতিবেশী মিটু, সুদীপ ও সুমনের সাথে পারিবারিক বিরোধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন- আমার বাবা কবিরাজি করুক তা তারা চাইতো না। তারা এ নিয়ে আমার বাবাকে নানারকম কথা বলতো, নানা অজুহাতে ঝগড়া করতো।’
    এদিকে একটি সূত্র জানায়, নিহত সুলাল চৌধুরীর ছোটভাই দুবাই প্রবাসী মতিলাল চৌধুরী ও বিন্দুলাল চৌধুরীর সাথে সম্পত্তির বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়েছে। ধৃত মিটুসহ বাড়ির বেশ কয়েকজন সুলাল চৌধুরী ও বিন্দু লাল চৌধুরীর পক্ষ নিয়েও ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন। এ খুনে ভাইদের কোন ইন্ধন আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
    এ ব্যাপারে কাকাতো ভাই চিকদাইর ইউপি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী বলেন- ইলিয়াছের জবানবন্দির পর প্রতিবেশী তিনজন আটক হওয়ায় ঘটনার রহস্য কিছুটা উদঘাটন হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আরো কেউ জড়িত আছে কিনা জানা যাবে।
    উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার আজাদী বাজারস্থ নিজ দোকান থেকে ফেরার পথে বাড়ির সন্নিকটে দুর্বৃত্তরা জবাই করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের বীরেন্দ্র কবিরাজের ছেলে সুলাল চৌধুরী (৫৫) নামের কবিরাজকে। এরপর ওই রাতেই যে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন সুলাল, সে রিকশাচালক (চৌকিদার) ইলিয়াছকে পুলিশ তার বাড়ি থেকে আটক করে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here