তারেক জিয়ার প্রেসক্রিপসনের আন্দোলন : সিদ্দিকী সাইফ

0
81
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন ২০২১-২০২২ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সিনিয়র আইনজীবী সদ্যপ্রয়াত জনাব আব্দুল মতিন খসরু স্যার সভাপতি পদে প্রায় হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এই মহান আইনবিদের মৃত্যুতে শুধু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি, হয়েছে সমগ্র আইনজীবী সমাজে, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে শোকের মাতম উপলব্ধি করেছিল সাধারণ আইনজীবী সমাজ।
সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অবশ্যই অভিভাবকের প্রয়োজন, এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্য নির্বাহী সংসদের নোটিশে/ আমন্ত্রণে করোনা মহামারী উপেক্ষা করে হাজার হাজার আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে সভার সভাপতি ও বর্তমান কার্য নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি জনাব এডভোকেট শফিক উল্লাহ’র প্রস্তাবে গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে অনন্য অসাধারণ পরপর দুবার প্রায় হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী, বাংলাদেশের সকল আইনজীবী সমাজের মাথার মুকুট, একজন আপাদমস্তক আইনবিদ, বাংলাদেশের মাননীয় এটর্নি জেনারেল, সিনিয়র আইনজীবী জনাব এম আমিন উদ্দিনকে বারের উন্নয়ন ও সাধারণ আইনজীবীদের কল্যাণে চলতি কমিটির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রায় উপস্থিত সকল আইনজীবীরা ( বিএনপি- জামায়াতের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল আইনজীবী ছাড়া) হাত তুলে ও কন্ঠ ভোটে সভাপতি পদে নির্বাচিত করেন। আমিন উদ্দিন স্যারকে সভাপতি পেয়ে সাধারণ আইনজীবীরা খুবই উচ্ছ্বসিত, আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে সোশাল মিডিয়ায় আনন্দের যে ঝড় উঠেছে তা সকলে প্রত্যক্ষ করেছেন।
জিয়াউর রহমানের মতো তার ছেলে তারেক জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্ক ও অপ্রাসঙ্গিক নাম। দুর্নীতি, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মা খালেদা জিয়ার সাথে এতিমের টাকা আত্মসাত করে দন্ডিত লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপকর্ম থেমে নেই। তার চোখ পড়েছে এখন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ধ্বংসের দিকে। কিছু দিন পূর্বে লন্ডন পলাতক খুনী তারেক জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট শাখা কমিটির স্কাইপ প্রেসক্রিপসন পাঠায়। তাদের মধ্যে বিএনপি জামায়াতের যারা খোশ তারা সোশাল মিডিয়ায় তারেক জিয়ার সাথে স্কাইপ আড্ডার স্তুতি বর্ণনা করেন, আর যারা নাখোশ তারা পকেট কমিটি মানিনা মানবনা বলে অনেক দিন পবিত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে শব্দ দূষণ করেন এবং সদ্য বিগত বার নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের বিদ্রোহী প্যানেল দাঁড় করান, সেলুকাস।
বর্তমান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিট প্রতিদিন গুটি কয়েক তাদের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত দোসরদের নিয়ে সভাপতি মানিনা-মানবনা বলে পবিত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ অপবিত্র করার অপচেষ্টা করছে। তাদের কিছু বেয়াদব কর্মী সোশাল মিডিয়ায় সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করছে যা খুবই অনাকাঙিক্ষত ও দুঃখজন। তাদেরকে প্রতিরোধ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদেশেরও প্রয়োজন নেই, আইনজীবীদের প্রিয় নেতা, সমগ্র বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজের ঐক্যে ও ভালবাসার প্রতিক, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মানিত সদস্য সচিব, বিশিষ্ট আইনবিদ ও সিনিয়র আইনজীবী জনাব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের এক আদেশেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা বিএনপি- জামায়াত- হেফাজতের নৈরাজ্য- মিথ্যাচার  ও অপরাজনীতি নিমেষেই ধূলিতসাৎ করে দিতে সক্ষম। কিন্তু তিনিতো একজন রণাঙ্গনের গেরিলা যুদ্ধার সন্তান, যার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহযোগি হয়ে এই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ঘাতকের বুলেটে শহীদও হয়েছেন। তাই গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর এতো শ্রদ্ধা।
বিএনপি- জামায়াত পন্থী কিছু আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদ্য নির্বাচিত সভাপতির পদটিকে বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করতে ঘৃণ্য অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সাধারণ আইনজীবীরা এমনকি বিএনপি সমর্থিত অনেক আইনজীবীরা এই নোংরা ও অযৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে নেই। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কয়েকজন নেতা ও কর্মী জামায়াতের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও তারেক জিয়ার প্রেসক্রিপসনে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করছে, যা সাধারন আইনজীবী সমাজের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, নিন্দনীয় বটে।

লেখক :

এস আর সিদ্দিকী সাইফ

সহকারী এটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ 

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here