আরাফার দিন রোজা রাখার বিধান 

0
34

সৈয়দ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ রশিদী :

পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন মুমিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। এ দিনসমূহে পবিত্র হজ, আরাফার ময়দানে অবস্থান ও হজের বিভিন্ন কার্যাদি হাজিরা সম্পন্ন করেন। এ দশ দিনে শেষের দিন পবিত্র কুরবানি। তজ্জন্য মহান রাব্বুল আ’লামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে সুরা আল ফজর এ দশ দিবসের শপথ করেছেন। তন্মধ্যে আরাফার দিন রোজা রাখা একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ন কাজ। এদিন হজ আদায়কারীরা যারা আরফার ময়দানে অবস্থান করেন তাঁরা রোজা রাখবেন না। আর এদিনটি হচ্ছে জিলহাজ মাসের নয় দিবসের দিন। এদিন হজ আদায়কারী ব্যতীত অন্যরা রোজা রাখা সুন্নাত এবং মুস্তাহাবও বটে। হাজি সাহেবানরা এদিন হজের কাজ নিয়ে ব্যস্থ থাকেন।

হাদিসে আছে- আরাফার দিন একদিন রোজা রাখা এক বছর অতীত জীবন ও এক বছর ভবিষ্যত জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ। হাদিসে ইয়াওমে আরাফা বা ‘আরাফার দিনের রোজা’ রাখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘আরাফার’ দিনে সিয়াম পালনের ফজিলতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- আমি মনে করি, আরাফার দিনে সিয়াম পালনে আল্লাহতায়ালা বিগত বছরের গুনাহ ও আগামী বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

(সহীহ মুসলিম: হাদিস ১১৬২) হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজের নবম দিন সিয়াম পালন করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন আশুরার দিনে৷ (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ) বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা মুবারকপুরী রহ. বলেছেন- হাফসা (রা.)-এর এ বর্ণনায় নবীজি জিলহজের নবম দিন রোজা রাখতেন; এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং এই দিনটিই ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন। (মিন্নাতুল মুনইম শরহু সহীহ মুসলিম ২/২১১) হাজিরা বিভিন্ন ইবাদত, জিকির-আযকার ও আরাফার ময়দানে অবস্থানে থাকেন। রোজা রাখার ফলে ইবাদতে শরীরিক দূর্বলতা আসবে তাই এ দিন প্রিয় নবীজি (দ.) রোজা রাখতে নিষেধ করেন।

হাদিসের কিতাব মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ এবং ইবনে মাজাহ শরীফে আছে- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (দ.) আরাফার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র বুখারী ও মুসলিম শরীফে আছে- হযরত উম্মে ফজল (রা.) হতে বর্নিত নিশ্চয়ই তাঁরা রাসুল (দ.) আরাফার দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে সংশয় করেছেন। কেননা, আরাফার দিন রাসুল (দ.) এর নিকট দুধ প্রেরণ করা হলো। তখন তিনি আরাফার খোতবা প্রদানের সময় দুধ পান করেন। অপর বর্ননায় সুনানে আবি দাউদে আছে- হযরত ইকরামা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, আমরা একদা হযরত আবু হুরায়রা (,রা.) এর ঘরে ছিলাম।

তখন তিনি আমাদেরকে হাদিস বর্ননা করেন যে, হযরত রাসুল পাক (দ.) আরফার দিন আরাফায় অবস্থানকারীদের রোজা রাখতে বারণ করেন। আরাফায় যাঁরা অবস্থান করেননি তারা কখন রোজা রাখবেঃ- হাদিস শরীফে আরফার দিনের রোজা রাখার কথা আছে। যারা আরাফাতে নেই সেসব মুসলিম পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকুক এদিনই রোজা রাখলে এক বছর পিছনের এবং এক বছর আগত দিনের গুনাহ মাফ হবে। আমাদের বাংলাদেশে আরাফার দিন জিলহজ মাসের আট তারিখ হয়। আর তখন আরফার দিন নয় তারিখ জিলহজ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here