স্বেচ্ছাসেবক লীগ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে

0
56
মোহাম্মদ মফিজুর রহমান ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অভ্যূদয় একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা। রাজনীতি যখন নানা গতানুগতিকতায় আবৃত্ত হয়ে পড়েছিল, সংগঠনপ্রেমী নিষ্ঠাবান কর্মীরা দম ফেলার জন্য একটি ফ্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলো হন্য হয়ে। তখন রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত অগ্রসর তরুণ, মেধাবী, ভিন্নধর্মী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ একটি প্রজন্মের কাছে চির নতুনের ডাক নিয়ে হাজির হলো স্বেচ্ছাসেবক লীগ। স্বেচ্ছাসেবক লীগ জন্ম থেকে পেরিয়েছে নানা চড়াই ওতরায়। বহু কন্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ পেরোতে হয়েছে এই সংগঠনকে। অনেক লড়াই সংগ্রাম শেষে আজ সেবা, শান্তি, প্রগতির পতাকা হাতে সারা দেশের ৫৫ হাজার বর্গমাইল জুড়ে আছে সৃজনশীল- মননশীল স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
আমরা লড়েছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে- এই গৌরব আমাদের। স্বেচ্ছাসেবক লীগের আদ্যোপান্ত জানতে আমাদের ফিরতে হবে একটু পেছনে। ১৯৫৪ সাল, পাকিস্তানী শাসকদের শোষনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে গণতন্ত্রের মানসপুত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে স্বেচ্ছাসেবকদের এই সংগঠনের গোড়াপত্তন হয়। আজকের বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে সেদিন স্বেচ্ছাসেবকদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশের আরেক প্রতিথযশা জননেতা মরহুম আবদুর রাজ্জাক এই সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবকরা রাখেন অমিত বিক্রম ভূমিকা। যুদ্ধোত্তর দেশ পুণর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিবেদিত থাকেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশ হারিয়েছে তার শৌর্য বীর্য স্বকীয়তা। এক মর্মস্পর্শী নির্মমতা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিতে ছোবল হানে। স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শহীদ হন। তারপর বাংলাদেশের অনন্য সাধারণ দলিল পবিত্র সংবিধান উদ্যত বেয়নেটের আঘাতে রক্তাক্ত হতে থাকে।
বাংলাদেশ জলপাই রঙের স্বৈরাচারের দ্বারা লাঞ্চিত হতে থাকে, কখনোবা ছদ্ম স্বৈরাচারের বেত্রাঘাতে জর্জরিত হতে থাকে একে একে। এভাবে দুঃসহ একুশ বছর। যখন সব কিছু নষ্টদের কবলে, শকুনের নখর ধ্বংসযজ্ঞ তৈরী করছে-সেই বিভিষিকার মধ্যেই ১৯৯৪ সালে ফিনিক্স পাখির মতো ডানা মেলে স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠনটি পুনর্বার। ততোদিনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার গণমূখী রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে শহর গ্রাম মাতিয়ে তুলেছেন। গণতন্ত্রের জন্য পিপাসার্ত অগ্রসর তরুণ প্রজন্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অটুট আস্থা রেখেছেন। শেখ হাসিনার সোনালী হাতের ছোঁয়ায় পূণর্জীবন ঘটে স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠনের। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই সংগঠনের নামকরণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তৎসময়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে স্বৈরাচার বিরোধী উত্তুঙ্গ আন্দোলনের সময় ২০০৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পন করা হয় দেশের বরেণ্য কৃষিবিদ জননেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমকে। প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন সাবেক ছাত্রনেতা পঙ্কজ দেবনাথ এমপি। তারপর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের সুযোগ্য গতিশীল নেতৃত্ব সংগঠনে আনে জোয়ার। দ্রুততম সময়ে দেশব্যাপী ব্যাপৃত হয়ে যায় সংগঠনের শাখা প্রশাখা। স্বৈরাচারী খালেদার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়াতে লড়াই করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ঢাকার রাজপথ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের আত্মদানের সাক্ষী হয়ে আছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নিউক্লিয়াস বাহাউদ্দিন নাসিমের দূরদৃষ্টি, অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দক্ষতার কারণে বর্তমানে এই সংগঠন আওয়ামী পরিবারের গর্বের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে বলতে পারে- ‘আমরা কখনো মাথা নত করিনি’। স্বেচ্ছাসেবক লীগ এগিয়ে যাচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে। একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠনের ভাবমূর্তি গড়তে পারা এই সংগঠনের বড় অর্জন।
বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কাজে এই সংগঠনের নেতা কর্মীরা দেশ গড়ার এক একজন নিবেদিত সৈনিক। বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তির অগ্রদূত জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শপথে আমরা আছি মুজিবাদর্শের অতন্দ্র প্রহরী।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কোভিড মহামারি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপন করেছি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা নির্মলরঞ্জন গুহু ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে সৃষ্টিশীল রাজনীতি চর্চায় সংগঠনকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার মধ্যে দিয়ে সভ্যতার উচ্চ শিখরে আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চাই। বাংলার জনগণের কাছে আজকের সময়ের দাবী ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’ ‘শেখ হাসিনা’য় শক্তিদিন বদলে যাবে সবার দিন’ এই স্লোগান আজ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
লেখক
সাধারণ সম্পাদক দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here