ফজলে করিম চৌধুরীকে আরো বড় দায়িত্ব দেয়া হলে দেশ লাভবান হবে : নাগরিক সংবর্ধনায় অভিমত

0
36

ফজলে করিম চৌধুরী শুধু রাউজানের নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি কৃষি ও মৎস্যখাতে অবদান রেখেছেন। রেকর্ড গড়েছেন বৃক্ষরোপণে। কাজ করছেন দেশের মাটি ও মানুষের জন্য। তাঁকে আরো বড় দায়িত্ব দেয়া হলে দেশ ও দেশের মানুষই লাভবান হবে। ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা নদী সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ অবদান রাখায় ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০২১’ অর্জনের জন্য সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে রাউজানবাসীর পক্ষ থেকে গতকাল নাগরিক সংবর্ধনায় কথাগুলো বলেছেন বক্তারা ।

রাউজানের ফজলুল কবির চৌধুরী অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম। সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব রাউজান পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক পূর্বকোণের প্রকাশক ও পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহম্মদ, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র ইসমাইল হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

এতে প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার বলেন, রাউজানের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী শুধু রাউজানের হালদা নিয়ে নয়, রাঙামাটির লেকের মাছ নিয়েও কাজ করেন। তিনি শুধু চুয়েট পর্যন্ত ট্রেন লাইন নয়, রাঙামাটি পর্যন্ত ট্রেন লাইন নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কাজ করছেন। পাহাড়ে ট্রেন কিভাবে যাবে প্রশ্ন তোলা হলে তিনিই উত্তর দিয়েছেন যে যদি দার্জিলিং এর ৭ হাজার ২০০ ফুট পাহাড়ে ট্রেন যেতে পারে তাহলে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আড়াই হাজারে যেতে পারবে না কেন?

সাংসদ দীপংকর তালুকদার বলেন, রাউজান পর্যন্ত চার লেনের রাস্তাকে রাঙামাটি পর্যন্ত নিয়ে যেতে আমার চেয়ে বেশি আগ্রহী ফজলে করিম। এতে প্রমাণিত হয়, তিনি শুধু রাউজানেরই এমপি নন, তিনি পুরো দেশের এমপি। যেখানেই মানুষের যা প্রয়োজন তার যোগান দিতে এমপি ফজলে করিমের তৎপরতা আমাকে মুগ্ধ করে।

দীপংকর তালুকদার বলেন, আমারও একটি পুরস্কার পেতে বড় ইচ্ছে করে। পুরস্কার পেতে ভালোও লাগে। আপনাদের এমপি আমার হুজুর, আমার থেকে লেখাপড়ায় এক বছরের জুনিয়র ছিলেন। রাজনীতিতেও আমার জুনিয়র। তিনি চার চারটি জাতীয় পুরস্কার পেয়ে গেলেন। আমি একটিও পেলাম না। কিন্তু আপনাদের সাথে এই পুরস্কার প্রাপ্তি উদযাপন স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো আনন্দিত করছে আমাকে। তিনি বলেন, ফজলে করিম চৌধুরীর মেধা ও কাজের স্বীকৃতি হিসাবে এসেছে চারটি জাতীয় পদক। তার চিন্তা চেতনায় আছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। তিনি কাজ করেন পদক প্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে নয়, নিজের মনে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন,গণমানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় তিনি কাজ করছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফজলে করিম চৌধুরীকে আরো বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ দিলে সমাজ, দেশ এবং মানুষ উপকৃত হবে।

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানকে নিজের মনের মত করে সাজিয়েছেন মন্তব্য করে দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে রক্তে রঞ্জিত রাউজানকে উদ্ধার করে শান্তির জনপদে পরিণত করেছেন।
সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, আমি কোনদিন স্বর্ণ পদকের জন্য কাজ করিনি। মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করা প্রয়োজন মনে করে করেছি। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, তাই কাজ করেছি। যেখানে যা করা প্রয়োজন তা করতে আমি কোনদিন পিছপা হইনি। আর এই কাজই আমাকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে কৃষকের ভাগ্য ফেরাতে হবে। তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। আমি তা-ই করেছি। আমার মনে হয়েছে হালদা নিয়ে কাজ করতে হবে। হালদাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমি তা করেছি। সেটি আমাকে পদক এনে দিয়েছে। আমি গাছ লাগিয়েছি। দেশের প্রয়োজনে মাত্র এক ঘন্টায় আমি সাড়ে চার লাখেরও বেশি গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। সেটি দেশের জন্য করেছি। পরিবেশের জন্য করেছি। সেটিই আমাকে পদক দিয়েছে। এই পদক আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজে আরো উৎসাহিত করেছে।

ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, এই পদক আমার নয়, এটা রাউজানের। চট্টগ্রামের। আমি যা করি মানুষের জন্য করি। একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। একজন শিল্পী যখন দেখেন তার কাজ সুন্দর হয়েছে তিনি আনন্দিত হন, একজন মালি যখন দেখেন তার বাগান সুন্দর হয়েছে তিনি আনন্দিত হন। আমিও তেমনি নিজের কাজে মানুষ উপকৃত হচ্ছে দেখলে আনন্দিত হই। ভালো লাগে। তিনি পুরো পৃথিবী ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবী বহুদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা সেভাবে এগুতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটাকে আমাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি সেই এগিয়ে নেয়ার কাজের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি।

সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, রাউজান ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। প্রতিনিয়ত শোনা যেত সন্তানহারা মায়ের কান্না, কাঁদতো বোনরা। সাড়ে তিনশ লোক এখানে মারা গেছে। ফিলিস্তিনের মতো লোক মারা হয়েছে রাউজানে। দিন পাল্টে গেছে। আজ আর রাউজানে কাউকে কাঁদতে হচ্ছে না। রাউজান আজ পরিণত হয়েছে শান্তির জনপদে।
ভালো কাজ করে গেলে মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে উল্লেখ করে ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আজ তলাবিহীন একটি দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন।
রাউজানের মানুষের বাসস্থান, যোগাযোগ, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। তিনি মানুষের জন্য, মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন বলেই আমার পক্ষে রাউজানকে একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করতে সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম একদিন সাংহাই হবে মন্তব্য করে ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, চালক ভালো হলে একটি ভাঙা গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন, চালক ভালো না হলে সবচেয়ে দামী গাড়ি নিয়েও গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন না। পাইলটের কাজ হলো বিমানকে, ক্যাপ্টেনের কাজ হলো জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া। রাজনীতিবিদদের কাজ হলো জাতিকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। দেশটিকে সোনার বাংলায় পরিণত করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা উত্তর জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম রাউজানের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে একজন কর্মবীর উল্লেখ করে বলেন, ফজলে করিম চৌধুরী চার চারবার জাতীয় পুরস্কার পেয়ে আমাদের গর্বিত করেছেন। এই সম্মান শুধু রাউজানের নয়, পুরো চট্টগ্রামের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফজলে করিম চৌধুরীকে পুরস্কৃত করে আমাদের সবাইকে সম্মানিত করেছেন।
এম এ সালাম বলেন, ফজলে করিম চৌধুরীর শত্রুও স্বীকার করবেন যে রাউজানে এমন অনেক কাজ হয়েছে যা ছিল অসাধ্য। ফজলে করিমই অসাধ্য সাধন করেছেন। দেশের ৩০০ এমপি যদি এভাবে কাজ করতেন তাহলে উন্নত বিশ্বে পরিণত হতে আমাদেরকে ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না।
আমরা কোন শৃঙ্খলা মানি না মন্তব্য করে এম এ সালাম বলেন, কিন্তু এই রাউজানে সবকিছুতেই শৃঙ্খলা আছে। ফজলে করিম চৌধুরীর কঠোর এবং দৃঢ় নেতৃত্ব রাউজানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এখানে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে প্রতিবেশী উপজেলা হাটহাজারী কিংবা ফটিকছড়িতে সেভাবে হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বলেন- রাউজানের মানুষ ভাগ্যবান, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা পেয়েছেন। এক সময়কার সন্ত্রাসের জনপদ রাউজান আজ পিংক সিটি, গ্রীন এন্ড ক্লিন সমৃদ্ধ জনপদ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আমি রাউজানের সন্তান। আমার ভাবতে ভালো লাগছে যে আমার এমপি চার চারটি জাতীয় পদক পেয়েছেন। তিনি কৃষিতে পদক পেয়েছেন। তিনি পদক পেয়েছেন মৎস্যতে। মাছে ভাতে বাঙালি, দুইটি অতি অপরিহার্য খাতেই তিনি পদক পেয়ে আমাদের গর্বিত করেছেন। এই দুইটি খাতে উন্নতি আমাদের একটি সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ফজলে শব্দের অর্থ মহৎ কাজ বা ভদ্রতা আর করিম শব্দের অর্থ সবচেয়ে উদার। রাউজানের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বাবা-মা সন্তানের যে নাম রেখে গিয়েছিলেন এলাকার মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে তা তিনি সার্থক করে তুলেছেন। এটি অনেক বড় একটি ব্যাপার বলেও এম এ মালেক মন্তব্য করেন।
দৈনিক পূর্বকোণের প্রকাশক ও পরিচালনা সম্পাদক জসিমউদ্দিন চৌধুরী রাউজানের সন্তান হিসেবে গর্ব করে বলেন, এমপি ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছেন। তিনি শুধু রাউজানের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন নয়, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here